শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে

বেনাপোল প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫২
অ- অ+

যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে আবার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জেলফেরত সোহাগ হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ক্ষুদ্র বেকারি ব্যবসায়ী

বুধবার ( জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ ওসি শামিনুল হক মঙ্গলবার (৩০ জুন) সোহাগ হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার বসতপুর এলাকার আবুল হোসেন তিনি ওই এলাকার মৃত মতলেব গাজীর ছেলে

সোহাগ হোসেন দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি দৈনিক বাংলার ভোর পত্রিকার বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি বলে দাবি করেন তিনি উপজেলার বাগুড়ী গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। চাঁদাবাজির মামলায় বেশ কিছু দিন তিনি কারাগারে ছিলেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বসতপুর এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহাগ হোসেন, শাহারুল ইসলাম রাজ, মহিউদ্দিন মিজানুর রহমান বেকারীতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা আবুল হোসেনের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কোনো অনুমতি ছাড়াই বেকারির ভেতরে প্রবেশ করে ছবি ভিডিও ধারণ শুরু করেন

বেকারি মালিক আবুল হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন সোহাগ এবং ইউএনওকে দিয়ে বেকারি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

একপর্যায়ে তিন হাজার টাকা সোহাগের হাতে তেুলে দেন আবুল হোসেন।

লিখিত অভিযোগে আবুল হোসেন আরও বলেন, ‘তিন হাজার টাকা পেয়ে রাগান্বিত হয়ে সোহাগ তার সহযোগীরা হুমকি দিয়ে যান-ব্যবসা করতে চাইলে সন্ধ্যার মধ্যে বাকি টাকা ০১৭৬৮৯৭৯৬৩৬ এই বিকাশ নাম্বারে পাঠিয়ে দিবি।’

পরে আবুল হোসেন শার্শা ইউএনও ও ওসি বরাবর পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন

ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন অন্যের বেকারিতে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টের পর নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে বসতবাড়িতে একটি বেকারির কারখানা গড়ে তুলেছি এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে আমার সংসার চলে এটিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস।’

সোহাগের হুমকির ঘটনায় চরম আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান আবুল হোসেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি

এর আগেও সোহাগের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার বেলতলা বাজারে আমের আড়তদার মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে সোহাগ চাঁদা দাবি করলে ওই সময় স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দেয় পরে আম ব্যবসায়ী সোহাগের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরা আমলি আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন সেই মামলায় সোহাগ দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন জেল থেকে বের হয়ে আবার জড়িয়ে পড়েন চাঁদাবাজিতে

বিষয়ে সোহাগ হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি ওসিকে জানিয়েছি তদন্ত করে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ইদানীং শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে আমরা তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি

(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬
রাজধানীর যানজট কমাতে বিকল্প বাস টার্মিনাল স্থাপনে সরকারের পরিদর্শন শুরু
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা