প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রিটিক্যাল কেয়ার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৫
অ- অ+

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসা প্রাপ্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি জানান, দেশের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও জীবনরক্ষাকারী ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর (আইসিইউ) প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বুধবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান দেশের ক্রিটিক্যাল কেয়ার খাতের কিছু ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে বলেন, দেশে প্রতি এক লক্ষ জনগণের বিপরীতে সাধারণ হাসপাতাল বেড রয়েছে মাত্র নয়টি। আর ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধার সংখ্যা প্রতি এক লক্ষে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলার স্থানীয় হাসপাতালে কোনো ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র নেই। দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত আইসিইউগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, দেশে স্পেশালিস্ট ইন্টেন্সিভিস্টের (নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ) সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে এনেস্থেটিস্ট ও নিউরোলজিস্টরা এই দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিইউ শয্যা ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কারণে অনেক সময় চিকিৎসকরাও নিরুপায় হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা উপকরণের ওপর জোর দেন তিনি।

ডা. জুবাইদা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব এবং অপর্যাপ্ত যানবাহন ব্যবস্থাকে একটি বিরাট অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, যথাযথ আইসিইউ সুবিধা না থাকা, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সগুলো অপ্রস্তুত থাকা রোগীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রত্যন্ত গ্রামে সরাসরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রদান সম্ভব না হলেও, অন্তত যেন লাইফ-সাপোর্ট সম্বলিত উন্নত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা যায় সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জনসংখ্যা বিশাল এবং সামর্থ্য সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাস্তবতার পরিবর্তন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে সুনির্দিষ্ট সংকল্প ও সুষ্ঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে আর কোনো দেশবাসী গুরুতর অসুস্থতার সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। একটি অকাল মৃত্যু পুরো পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দেয়। আগামীতে যেন ক্রিটিক্যাল চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুহার আর না বাড়ে, আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন আগামীতে বিরাট অবদান রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রাজধানীর যানজট কমাতে বিকল্প বাস টার্মিনাল স্থাপনে সরকারের পরিদর্শন শুরু
শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা
শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা