আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩০
অ- অ+

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। রবিবার তার আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে মান্নার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ একাধিক আইনজীবী।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তার মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

তিনি বলেন, আমি প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিশ্বাস ছিল এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।

মান্না বলেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেয়া নয়, বরং ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেয়া। আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিক বা সময় দিয়ে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা দেয়ার বিধান আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছি, এবারও করছি। অথচ আমাকে বিরোধিতা করতে যে কূটকৌশল করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনও কারণ ছিল না।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, রক্ত ও জীবন দিয়ে যে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করা হয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছু থাকে না। ক্ষমতার জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনোই গণতন্ত্রের পথ হতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক, সমগ্রের কাছে সবাই ছোট এই মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না।

ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই কর্মকর্তা শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার হন। তবে এই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম উল্লেখ না করে মান্না বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক। তবে ‘কোমরের নিচে আঘাত’ করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘ হলে ষড়যন্ত্র টিকে না-আজকের রায় তার প্রমাণ।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে বিজয় অর্জনের মানসিকতা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, পুলিশ এখন পর্যন্ত সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না, অনেক জায়গায় নীরবতা দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে মান্না বলেন, এখনও বিএনপির মনোনীত প্রার্থি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তবে যেহেতু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক নিয়ম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর আগে গত ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। তখন তিনি তিনটি কারণ উল্লেখ করেন— এফিডেভিডে আইনজীবী ও প্রার্থীর সইয়ের তারিখে অমিল, মামলার কাগজপত্র না দেয়া এবং সম্পদের বিবরণীতে ত্রুটি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা
‘তথ্য ফাঁস করলে ইনস্পেক্টরকে ঝুলিয়ে দেব’, কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুলের বক্তব্য ভাইরাল
জনগণের ঐক্যের কাছে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না: ডা. জাহিদ
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পুনর্মিলনীতে গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা