স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোণায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় রিপন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে রিপন মিয়া ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়িতে যান। সে সময় ওই ছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে এবং মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে রিপন জোর করে তাকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে রিপন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে একটি সালিস বৈঠক বসে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেখানে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
এদিকে ওই সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রিপন মিয়া ও সালিসে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে পাওয়া যায়নি। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
ওসি আবুল খায়ের বলেন, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রধান আসামি রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কাঠমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি পান রিপন মিয়া। ‘হাই, আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এ ধরনের সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় হন। ‘রিপন মিয়া’ নামে তার একটি ফেসবুক পেজে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































