জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জনসেবামুখী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)। বাহিনীটির বলছে, প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে চলমান সংস্কার তাদের আরও জবাবদিহিমূলক, আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলছে।
বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। একই সঙ্গে বাহিনীর সব রেঞ্জ, জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন, ব্যাটালিয়ন এবং উপজেলা কার্যালয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন স্তরে অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির অভাব জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতায় আনসার-ভিডিপির প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সাম্য, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে বাহিনীর বিভিন্ন সেবাকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে জবাবদিহি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাচ্ছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, চলমান এই সংস্কারের ফলে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাহিনী জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করছে। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈষম্য দূরীকরণ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে নৈতিকতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের চর্চাকে টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন আনসার কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনসার-ভিডিপি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা নিয়ে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এতে বাহিনীর উপমহাপরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































