জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার বিচার ও আহতদের পুনর্বাসন দাবি সাংবাদিকদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পাশাপাশি তারা আহতদের পুনর্বাসনেরও জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় র্যালি ও সমাবেশে এ দাবি জানান তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালি ও সমাবেশে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
র্যালি ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক সাজান সাজু, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ ও এইচ এম আলামিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ বেগম পলি এবং সাংবাদিক নেত্রী মাসুদা আক্তার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই বিজয় র্যালিতে শহীদ, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে সাংবাদিকদের স্লোগানে পুরো রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে।
ডিইউজের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনতা আওয়াজ তোলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা, আমাদের প্রেরণা’; ‘জুলাইয়ের রক্ত, আমাদের শক্তি’; ‘জুলাই শহীদদের রক্ত, বৃথা যেতে পারে না’; ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের, ফাঁসি চাই, দিতে হবে’ এবং ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’।
মিছিল শেষে সমাবেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য ছাত্র, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নিহতদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।
সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের সোচ্চার থাকতে হবে।
ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডিইউজের সভাপতি বলেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করে দেয় শেখ হাসিনার সরকার। নিহতদের মধ্যে ছয়জন সাংবাদিক ছিলেন এবং সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিক আহত হন। বর্তমান সরকারের কাছে সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের আপস বা শৈথিল্য নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
(ঢাকাটাইমস/৫আগস্ট/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































