শরীরে বিশেষ জ্যাকেট, ভেতরে ফেন্সিডিল; ডিএনসির গোয়েন্দা অভিযানে গ্রেপ্তার ৪

বিশেষভাবে প্রস্তুত করা জ্যাকেটের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে ফেন্সিডিল পাচারের সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়। গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে ৩০৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাসিরুল ইসলাম (৪৮), নাটোরের লালপুরের ফাহিম আজাদ (২৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জের জুলেখা খাতুন (৩২) এবং শারমিন খাতুন (৩২)।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনানীর মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা পৃথক দুটি বাসে অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুরে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মেহেদী হাসান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, কয়েকজন মাদক কারবারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং দেশ ট্রাভেলস নামক দুটি যাত্রীবাহী বাসযোগে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল ঢাকায় নিয়ে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান করি। পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তিন যাত্রীর দুটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ২০৯ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পরে দেশ ট্রাভেলসের আরেকটি বাসে এক যাত্রীর শরীরে পরা বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে আরও ৫০ বোতল এবং একই ধরনের আরেকটি জ্যাকেট থেকে আরও ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মোট ৩০৯ বোতল ফেন্সিডিলে প্রায় ৩০ দশমিক ৯ লিটার কোডিনযুক্ত তরল মাদক রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএনসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেন্সিডিল সরবরাহ করতেন। নজরদারি এড়াতে তারা একাধিক যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করতেন, মাদক পরিবহনের সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতেন এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করতেন।
ডিএনসির দাবি, মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জ্যাকেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি জ্যাকেটের ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেন্সিডিল বহন করা সম্ভব। বাইরে থেকে এগুলো সাধারণ পোশাক বলেই মনে হতো।
ডিএনসি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের অন্য সদস্য, অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































