দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চালু হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত পেপ্যাল

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল চালুর দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন নতুন করে গতি পেয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা ঘোষণা ও উদ্যোগের পর এবার সরাসরি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন—দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর আলোচনা শুরু হয় ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণায় ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে চালু হয় কেবল পেপ্যাল জুম সেবা। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠাতে পারলেও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পেমেন্ট সুবিধা চালু হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২১ সালেও চালুর ঘোষণা এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে “পেপ্যাল আসছে”—এই প্রতিশ্রুতি বারবারই অপূর্ণ থেকে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেপ্যাল চালু না হওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সেটেলমেন্ট অবকাঠামোর অভাব
- অনলাইন জালিয়াতি প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় সাপোর্ট সিস্টেমের ঘাটতি
- কেওয়াইসি ও ঠিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতা
- বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়ন্ত্রিত নীতি
- আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ধীরগতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেপ্যাল কেবল একটি পেমেন্ট গেটওয়ে নয়, বরং দ্বিমুখী অর্থপ্রবাহনির্ভর একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ফলে অর্থের অবাধ আগমন ও বহির্গমন নিশ্চিত না হলে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা কঠিন।
২০২৬ সালের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, পেপ্যাল “নীতিগতভাবে আগ্রহী”, যদিও এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদীয় ঘোষণার মাধ্যমে। তিনি জানান, দেশে পেপ্যাল চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং হাইটেক পার্ক ও আইসিটি অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও পেপ্যাল চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কারা উপকৃত হবে
পেপ্যাল চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে—
- ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাত: দ্রুত ও নিরাপদ পেমেন্ট নিশ্চিত হবে
- ই-কমার্স খাত: আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি সহজ হবে
- রেমিট্যান্স প্রবাহ: আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানো বাড়তে পারে
- ডিজিটাল অর্থনীতি: ক্যাশলেস লেনদেন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হবে
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন—পেপ্যাল চালু করা কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি জটিল আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া। বাজার পরিস্থিতি, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পেপ্যাল।
সবকিছু বিবেচনায়, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত হলেও বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে।
(ঢাকাটাইমস/১৬ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































