পুলিশ কনস্টেবল সম্রাটের আত্মহত্যা, কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা

কাশিয়ানী প্রতিনিধি
  প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭
অ- অ+

খুলনায় দায়িত্বরত অবস্থায় নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস। হঠাৎ এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার স্বজনদের মাঝে। তবে কেন তিনি এমন পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।

গতকাল শনিবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন সম্রাট। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার মরদেহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে পরিবার স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট সবার ছোট। বড় বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান সম্রাট। চাকরিরত অবস্থায় প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পুঁজা দাসের সঙ্গে। ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সামনের মাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল তাদের। সম্প্রতি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাসও পুলিশ সদস্য, বর্তমানে কর্মরত সাতক্ষীরা জেলায়। কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল সম্রাট তার স্ত্রীর মধ্যে। গতরাতে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি হয় সম্রাটের। মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের। গত আশ্বিন মাসে কোর্ট ম্যারেজের পর আগামী ১৯ বৈশাখে পারিবারিকভাবে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু সেই আয়োজন আর বাস্তবায়ন হলো না।

এদিকে, সম্রাটের স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি খুলনায় এলেও গ্রামের বাড়িতে আসেননি। এতে পরিবারে এক ধরণের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করছেন সম্রাটের পরিবার। তবে প্রকৃত কারণ এখনও অজানা।

ঘটনায় শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সম্রাটের বাবা-মা। ছেলের মৃত্যুর কথা তারা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। বারবার ছেলের নাম ধরে ডেকে উঠছেন, কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না। প্রতিবেশী আলমগীর ফকির জানান, সম্রাট এলাকার একজন ভদ্র শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। যদি নিজের কষ্ট কারও সঙ্গে ভাগ করতেন, হয়তো এমনটা হতো না।

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় জানান, আমরা খবর পেয়ে খুলনা গিয়ে আমার ভাগ্নের মরদেহ হাসপাতালে পড়ে থাকতে দেখি। মাস আগে আমাদের সে জানায় সাতক্ষীরা পুলিশে চাকরি করে এক মেয়েকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে আমরা আর কিছু না ভেবে দুই পরিবার থেকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকে পরিবারে সে এক টাকাও দিত না। সব বউ নিয়ে যেত।

তিনি আরও জানান, ওর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি প্রতিদিনই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। গতরাতে ফোনে দুজনের মধ্যে রাগারাগি হয়। এরপরই ঘটনা ঘটিয়েছে।

সম্রাটের ভগ্নিপতি বিপ্লব কুমার সেন জানান, আমার শালাবাবু মা-বাবার সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে যা বলতো পরিবার তাই মেনে নিত। ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে পরিবার তাই মেনে নিয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে ওর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এর কারণেই আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২৬ আগস্ট মধ্যরাত থেকে রাজধানীর যেসব এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ৫
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পেছাল
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সহিংসতার শঙ্কায় সতর্ক পুলিশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা