কবিতা
এসো, ইতিহাস লিখি

এসো, ইতিহাস লিখি ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া
এসো, ইতিহাস লিখি—
অগ্নি-অরুণ আলোর অসীম অঙ্গনে
মানুষের মহাকাব্যের মহিমাময় মহারণ্য বিস্তার করি,
বন্ধুর উষ্ণ বুকের বন্ধনে ভেঙে যাওয়া ভয়ের বিষণ্ণ ব্যূহের বহুমাত্রিক বয়ান লিখি,
নারীর নক্ষত্র-নীরব নীলিমায় নিভৃত নিবেদনের
নিরবধি নান্দনিক নথি নির্মাণ করি।
.
পাখির পাখায় প্রসারিত পথের প্রতিজ্ঞা
প্রান্তরে প্রভাতের প্রগাঢ় প্রতীক এঁকে দিই,
ঝঞ্ঝার ঝাপটায় জেগে ওঠা জীবনের জ্যোতির্ময় জাগরণের জটিল জার্নাল সাজাই,
অন্ধকারের অতল অন্তরালে আলো-অর্ঘ্যের অদম্য অভিযাত্রার অক্ষয় আখ্যান রচনা করি।
.
সংগ্রামের রক্তরাঙা রৌদ্রে রচিত রূপরেখায়
রুদ্র সময়ের রুদ্ধশ্বাস রূপ উন্মোচন করি,
ক্ষুধিত কণ্ঠের কঠোর ক্রন্দনে কাঁপতে থাকা
ক্রান্তিকালের করুণ কাহিনি কাব্যায়িত করি,
পরাজয়ের পঙ্কিল প্রান্তর পেরিয়ে
পুনর্জন্মের প্রজ্জ্বলিত প্রতীকের প্রগাঢ় পরিচয় লিখি।
.
বিদ্রোহের শৃঙ্খল-ছেঁড়া শপথে শিহরিত স্বাধীনতার শঙ্খধ্বনির শাশ্বত শব্দ সাজাই,
নিস্তব্ধতার নিবিড় নীলিমায় ন্যায়ের নবীন নৃত্যের নান্দনিক নিবন্ধ নির্মাণ করি,
অন্যায়ের অগ্নিগর্ভ অরণ্যে অটল অভিযাত্রার অমোঘ অর্ঘ্যের অনির্বাণ আলেখ্য আঁকি।
.
বিপ্লবের ভাঙনভূমিতে ভোরের বীজ বপনের বর্ণিল ব্যঞ্জনায় ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ি,
স্বপ্নের স্রোতস্বিনীতে সৃষ্টির সোনালি সম্ভাবনার
সুদূর সোপানের সূক্ষ্ম স্বাক্ষর রাখি,
মানুষে মানুষে মিশে যাওয়া মৈত্রী-মন্ত্রের মহিমান্বিত মহাকালের মর্মস্পর্শী মুদ্রা লিখি।
.
মুক্তির অন্তর-অগ্নির অনুরণনে অবাধ অস্তিত্বের অশেষ অনুভবের অলৌকিক আখ্যান গাঁথি,
নিজেকে নতুন করে নির্মাণের নিভৃত নিবেদনে নীরব নিঃশেষতার নিবিড় নিগূঢ়তা লিখি,
শ্বাসে শ্বাসে স্বাধীনতার স্বর্ণস্পন্দনের সুনীল সুরে সত্তার সুদীর্ঘ সঙ্গীত সৃষ্টি করি।
.
সম্বন্ধনহীন সীমাহীন সমতার স্বচ্ছ সাগরে সকল সংকীর্ণতার সীমানা সরিয়ে দিই,
রঙ-নাম-নির্ধারিত রুদ্ধতার রুদ্ধদ্বার রুখে দিয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল রূপান্তরের রূপরেখা আঁকি,
এক আকাশে একাত্ম আত্মার অখণ্ড অভিসারে অমল মানবতার অনিঃশেষ আয়না গড়ি।সাহিত্যের সুরভিত স্বরে সময়ের সংলাপের সুদূর সঞ্চিত স্মৃতি সংরক্ষণ করি,
অক্ষরের অঙ্গে আঁকা অনুভবের অমল আলোয়
অদৃশ্য অশ্রু ও আনন্দের অনুবাদ রাখি,
কলমের করুণ কণ্ঠে কালের কাব্যের করতলচিহ্নে কাব্যময় কালের কাহিনি খোদাই করি।
.
কবিতার ইতিহাসের ইতিহাস লিখি—
পংক্তির পরতে পরতে প্রবহমান প্রাণের প্রগাঢ় প্রবাহের প্রাচুর্য প্রকাশ করি,
ভাষার ভাঙনে ভেসে ওঠা ভাবনার ভোরের ভেলায় ভবিষ্যতের বর্ণিল বহমানতা ভাসাই,
এসো—লিখি মানুষের অনন্ত, অমল, অদম্য ইতিহাসের অবিনাশী অলঙ্কার;
কালের খনি থেকে মণি এনে সাজাই মানুষের অর্জনের অবিনাশী সম্ভার।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































