কবিতা
অলৌকিক নবযাত্রা

পুরোনো বছরের ক্লান্ত দেহ আজ
গোধূলির নরম অন্ধকারে বিলীন হয়ে যায়;
ইতিহাসের নদী যেন নিজ তীর ভেঙে
ভবিষ্যতের অতলে লীন হবে বিমুক্ত দ্বিধায়।
.
সময়ের অন্তঃপুরে জমে থাকা সব ব্যর্থতা, অপূর্ণতা, নিঃশব্দ কান্নার ভার,
আজ দগ্ধ শালুকের মতো জ্বলে উঠে জন্ম দেয় এক নবতর দ্যুতির বাহার।
.
নববর্ষ কেবল তারিখ নয়,
নয় কেবল পঞ্জিকার বিবর্ণ পাতা,
সে এক অদৃশ্য সেতু;
যেখানে ছাই-ঢাকা অতীতের সাথে
স্বর্ণালী আগামীর সংগোপন-কথা।
.
আমরা দাঁড়াই সেই সেতুর ওপর,
কম্পিত পায়ে তবু দৃঢ় প্রাণে,
অন্ধকারের অন্তিম সীমানায় আলো ছুঁতে চাই পরমের অমোঘ বিধানে।
.
সোনালি শরণ কোনো আশ্রয় নয়
এ এক দীপ্ত বিশ্বাসের অনল,
যেখানে মানুষ নিজের অন্তঃসূর্য চিনে
জ্বলে ওঠে দৃপ্ত অবিচল।
.
যে আঁধারে হারিয়েছিলাম পথ,
ছিলাম বিভ্রান্ত, ছিলাম ক্ষীণ,
সেই আঁধারই আজ আঁকে চোখে
নক্ষত্রপুঞ্জ; দিশার রঙিন দিন।
.
প্রতিটা ভাঙন এক একটা বীজ,
প্রতিটা হারানো স্বপ্ন বিহ্বলতায় বিবর্ণ,
নীরব বনে শেকড় গাঁথে তারা
ভবিষ্যতের দিকে প্রসারিত অন্তর্লীন মর্ম।
.
নববর্ষের প্রথম প্রহরে দেখি
নিজেকেই নতুন করে পাওয়া,
পুরোনো ‘আমি’ ভেঙে গড়ি নতুন ‘আমি’
রূপান্তরের অলৌকিকতায় ছাওয়া।
.
সময়ের চাকা ঘোরে অবিরাম,
তবু কিছু ক্ষণ হয় অনাদি-অবিনাশ,
বিশ্বাসের দীপ্তিতে সেই ক্ষণেই মানুষ ছুঁয়ে ফেলে চিরন্তনের অনাগত আভাস।
.
স্বর্ণালী ভবিষ্যত দূরের নয়
এ বর্তমানের জাগ্রত প্রত্যয়,
প্রতিটি পদক্ষেপে যে বলে,
“এগিয়ে চলো, তোমার জগৎ হোক মঙ্গলময়।”
.
হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে যে প্রার্থনা
তা নয় শব্দের কোনো বাঁধন,
সে এক আলোকরেখা,
অন্ধকার ভেদ করে গড়ে পথ চিরন্তন।
.
এভাবেই পুরোনোর শেষ নি:শ্বাসে জন্ম নেয় নতুনের প্রথম স্পন্দিত গান,
স্বর্ণালী শরণে শুরু হয় যাত্রা——
অতীত পেরিয়ে গড়ে ওঠে
ভবিষ্যতের স্বপ্নীল সোপান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































