কবিতা
তুমিই নিত্য

তোমার রাত কাটে প্রিয়;
নিঃশব্দে, অঘোর সুখনিদ্রায়,
যেন পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি এসে আশ্রয় নিয়েছে তোমার নিঃশ্বাসে।
আর আমার রাত কাঁটে
একটি ভাঙা সেতুর উপর দাঁড়িয়ে থাকা
নিরূপায় মানুষের মতো,
যে জানে ওপারে কেউ নেই,
তবু অপেক্ষা ছাড়তে পারে না।তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
চাঁদের আলো মেখে থাকা শান্ত নদীর মতো,
আর আমি জেগে থাকি
সমুদ্রের ভিতরে ডুবে যাওয়া এক নামহীন দ্বীপ হয়ে।
তোমার জানালায় হয়তো বাতাস আসে
শিউলির গন্ধ নিয়ে,
আমার জানালায় আসে শুধু
অসমাপ্ত কথাদের দীর্ঘশ্বাস।
রাত যত গভীর হয়, তত মনে হয়;
মানুষ আসলে কারও অনুপস্থিতিতেই
সবচেয়ে বেশি বেঁচে থাকে।
তুমি জানো না,
কতবার আমি অন্ধকারকে বলেছি
তোমার কণ্ঠস্বর হয়ে একটু পাশে বসতে।
কতবার ভোরের আগে
আমি নিজের ভেতরে মৃত পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনেছি।তোমার বালিশে ঘুম নামে আশ্রয়ের মতো,
আমার বালিশে জমে থাকে
অসংখ্য না-বলা বাক্যের শীতল ধ্বংসাবশেষ।
তুমি হয়তো স্বপ্ন দেখো;
সব ঠিক হয়ে যাওয়ার,
আর আমি জেগে জেগে দেখি
কীভাবে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের ভেতর থেকেই হারিয়ে যায়।
এই যে একই রাত;
একই আকাশের নিচে,
তবু কত ভিন্ন তার পরিণতি।
তোমার জন্য রাত মানে বিশ্রাম,
আমার জন্য রাত মানে
নিজের সঙ্গে যুদ্ধের আরেকটি দীর্ঘ অধ্যায়।
তবু প্রতিটি অন্ধকার শেষে
আমি এখনো তোমাকেই ভাবি;
যেন পৃথিবীতে আলো বলতে
তোমার নামটুকুই শেষ সত্য,
তোমার ভাবনায় আমি অনিত্য হলেও
আমার অস্তিত্বে তুমি নিত্য—
যেখানে লুটিয়ে পড়ে আমার
সকল অহম-আমিত্ব।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































