নতুন পে স্কেল চূড়ান্তের পথে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ মে ২০২৬, ১১:৪৭| আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১৩:০১
অ- অ+

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরো কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, আরেকটি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন সমন্বয়।

প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে

দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে

তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে

এ বিষয়ে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

নতুন পে স্কেল প্রস্তাবে বিভিন্ন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

বৈশাখী ভাতা: বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব

টিফিন ভাতা: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা

শিক্ষা ভাতা: সন্তানদের জন্য মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা

এই ভাতা বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হবে।

আগামী জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়: প্রায় ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা

পেনশন খাতে ব্যয়: প্রায় ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা

মোট প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য ব্যয়: প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে—

সর্বনিম্ন বেতন: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়। এবারও একই ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নীতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

(ঢাকাটাইমস/১১ মে/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মৌলভীবাজারের বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমুর বিরল ডিমের দেখা মিলল, কৌতূহলী দর্শনার্থীদের ভিড়
আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে: গভর্নর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট
সচিবালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা