ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০২৬, ১৬:৫৬
অ- অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুরপাড়ে শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানে নিয়মিত টেলিভিশন চালানোর কারণে সারা দিনই দোকান ও এর পাশের পুকুরপাড়ে মানুষের ভিড় থাকে। দোকানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের নারী ও মেয়েদের উদ্দেশ্য করে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হয়। এ নিয়ে চায়ের দোকানটি তুলে দেওয়ার আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

পাশাপাশি গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির মো. জোবায়েরের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের মইধ্যের বাড়ি হাজী মো. জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের সঙ্গে চায়ের দোকান উচ্ছেদের প্রসঙ্গটি নতুন করে যুক্ত হয়। মিন্দান আলী বাড়ির লোকজন গ্রামের ওই চায়ের দোকান উচ্ছেদের পক্ষে রয়েছেন।

সম্প্রতি গ্রামের একটি সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজন ওই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল (শনিবার) সকালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উভয়পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একপর্যায়ে গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরে দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকদিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি। এসব নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০, ভাঙচুর-আগুন
সংসদে দেওয়া কথা রাখেননি বিদ্যুৎমন্ত্রী, স্পিকারের ক্ষোভ
জুনে জেট ফুয়েলের দাম কমল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা