মুলাদীতে আ.লীগ কর্মী ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় যুবদল নেতাদের নাম নিয়ে বিতর্ক

বরিশালের মুলাদীতে পুলিশের থেকে হাতকড়াসহ (হ্যান্ডকাফ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি হয়েছেন যুবদল নেতা সুমন ভূঁইয়া, কামরুজ্জামান বাবু ভূঁইয়া ও সিয়াম ভূঁইয়া। গত ২ জুলাই দুপুরে মুলাদী থানার এসআই মনির হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলার ১২ জন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বাকি তিনজন বিএনপির রাজনীতিতে সরব রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৩ জুন রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী রাশেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। রামারপোল বাজার থেকে সেতু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে নেয়ার সময় সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফসহ দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। এরপর একই দিন দিবাগত রাত ১টার দিকে সেতু ভূঁইয়ার স্বজনেরা কৌশলে পুলিশের কাছ থেকে চাবি নিয়ে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেন কিন্তু পুলিশ আসামি উদ্ধার করতে পারেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন ভূঁইয়া বলেন, ‘মামলায় আমার নাম দেখে একপ্রকার অভাগ হয়েছি। আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। আমি নিজেও ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতি করেছি। মাঝে বেশ কয়েক বছর বিদেশে থাকতে হয়েছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে রামারপোল বাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করছি। যেহেতু বাজারে আমার দোকান তাই বেশিরভাগ সময় বাজারেই থাকতে হয়। তাছাড়া আমি বাজার কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছি। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকে ঘটনার দিন হট্টগোল শুনে এগিয়ে গিয়েছি ঠিক কিন্তু আইন নিজের হাতে নেয়ার মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত ছিলাম। যারা এই হট্টগোলে অংশ নিয়েছিল তাদের নামে মামলা না হলেও ষড়যন্ত্র করে আমার নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় যে, ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে এটা করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কখনোই আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করিনি, এখানে ভুল হচ্ছে। আমি পারিবারিক প্রতিহিংসার শিকার। অনেক আগে থেকেই আমি যুবদলের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়, যা মুলাদীর সব নেতারা অবগত আছেন। যুবদলের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছি। এই মামলায় আমার নাম জড়ানো হয়েছে ষড়যন্ত্র করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুলাদী উপজেলার বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান বাবু ভূঁইয়া আর নাজিরপুর ইউনিয়নের যুবদলের সক্রিয় সদস্য সুমন ভূঁইয়া ও সিয়াম ভূঁইয়া। তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। মুলাদী উপজেলার বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































