আদালতে ঢুকে ওসির তিন স্যালুট, বিচারকের প্রশ্ন ‘আপনি এখানে কেন’

ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান আদালতের এজলাসে ঢুকে বিচারককে তিনবার স্যালুট করেছেন। এ সময় বিচারক তার পরিচয় জানতে পেরে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন?’ পরে ওসিকে এজলাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খানের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, এদিন বিচারক এজলাসে ওঠার আগে ওসি নোমান তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে আদালতের সংশ্লিষ্টরা অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে তাকে জানান। পরে বিচারক এজলাসে ওঠার পর হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করেন ওসি। এ সময় তিনি তিনবার স্যালুট দিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
বিষয়টি নজরে এলে বিচারক আদালতের স্টেনোগ্রাফারের কাছে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওসি নোমানকে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন। আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যে আপনাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের অর্ডার অর্ডারই।’
এরপর এজলাস থেকে বের হয়ে যান ওসি নোমান।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দাগনভূঞা থানার ওসি বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেছেন বলে শুনেছি।’
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের পত্র তারা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান।
আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার ২৪ বছর বয়সী এক নারী তার স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন। থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।
আদালত অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, ওই নারীর চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা আদালতের কাছে বোধগম্য হয়নি।
শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক ২২ বছর বয়সী নারীকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা মামলাও গ্রহণ না করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। ওই নারীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়।
পৃথক দুটি ঘটনায় অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি গুরুতর বলে প্রতীয়মান হওয়ায় আদালত দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ দুটি মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয় তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
(ঢাকাটাইমস/১৩ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































