মার্কিন পণ্যে ১৫-৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা কানাডার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হবে। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে নতুন পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন শিল্প ও ভোগ্যপণ্য রয়েছে।
নতুন তালিকায় হিমায়িত ও তাজা মাছ, ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, রেলওয়ে নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর আগের ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। গৃহস্থালি সরঞ্জাম, পনিরসহ কিছু দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিশেষ কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আমদানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় আমদানি করা মোট পণ্যের প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে।
মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সহায়তায় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্যাকেজও ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার। অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেন বলেন, কানাডার ওপর এটি একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ হলেও দেশটি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম।
এদিকে কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি দেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নতুন মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করলে কানাডাও এর কঠোর জবাব দেবে।
এর আগে শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ২০২৭ সাল থেকে কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক বর্তমানের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে কানাডার রপ্তানির ওপর কার্যকর মার্কিন শুল্ক হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। এতে প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কাঠ ও কাগজ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কুইবেক, নিউ ব্রান্সউইক ও অন্টারিওর উৎপাদকরা চাপের মুখে পড়তে পারেন।
বিশ্বের দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এর প্রভাব দুই দেশের ব্যবসা, শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরে পণ্য বাণিজ্যে মেক্সিকোর পর কানাডাই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।
(ঢাকাটাইমস/২৬ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































