ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজবে তীব্র প্রতিবাদ, দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি

নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর প্রচারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব এস এম আজাদ হোসেন।
কয়েকজন ইউটিউবারের মাধ্যমে ইলিয়াস কাঞ্চন মারা গেছেন-এমন ভুয়া সংবাদ প্রচারের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি বলেন,যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুর খবর প্রচার করা শুধু সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী নয়,এটি চরম দায়িত্বহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরও বহিঃপ্রকাশ।
তিনি জানান,ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি ভালো আছেন। চিকিৎসাধীন একজন মানুষের শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার তাঁর নিজের মানসিক অবস্থার ওপর যেমন বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে,তেমনি পরিবার ও স্বজনদের মধ্যেও অযথা উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ তৈরি করে।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আজাদ হোসেন বলেন,ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা ও মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর মতো একজন জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দর্শক আকর্ষণ ও প্রচারের স্বার্থে মানুষের জীবন-মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়কেও পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতার অংশ বলা যায় না; বরং এটি হলুদ সাংবাদিকতার একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
তিনি উল্লেখ করেন,ইলিয়াস কাঞ্চন কয়েকদিন আগেই দেশ থেকে ঘুরে গেছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভালো থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে তাঁর মৃত্যুর নামে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ শুধু একজন ব্যক্তির সম্মান ক্ষুণ্ন করে না; একই সঙ্গে তাঁর পরিবার,স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের মধ্যে অকারণ আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিশেষ করে একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাকালীন সময়ে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা মানবিকতার চরম লঙ্ঘন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আজাদ হোসেন বলেন,‘মানুষের জীবন-মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকতার অধিকার হতে পারে না। এটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা,পরিবারের মানসিক শান্তি এবং সামাজিক সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত।’
তিনি অবিলম্বে মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী সংশ্লিষ্ট ইউটিউবারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।'
ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন,একজন মানুষের চিকিৎসার সময় তাঁকে ঘিরে গুজব নয়,প্রয়োজন সহমর্মিতা,শুভকামনা ও মানবিক আচরণ।
(ঢাকাটাইমস/২৭ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































