‘সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দিয়েছে পুলিশই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ মার্চ ২০১৭, ১২:৪০| আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৭, ১৪:৩১
অ- অ+

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর সুগার মিলের জমি থেকে সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদে অভিযান চলাকালে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল আগুন দিয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগের পুলিশের ডিআইজির পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সাঁওতালপল্লিতে আগুন দিয়েছেন গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন।

গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদে অভিযানে যায় পুলিশ। পূর্বপুরুষদের জমি দাবি করে সেখানে ঘর তুলেছিল তারা। অভিযান চলাকালে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে সাঁওতালপল্লিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এক পুলিশ সদস্যের একটি বাড়িতে আগুন দেয়ার ছবি প্রকাশ হয়। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তেই দুই জনের নাম উঠে এসেছে।

তদন্তে নাম আসার পর অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ওই অভিযানে যাওয়া ৫৮ পুলিশ সদস্যকে। একই সঙ্গে গাইবান্ধার সে সময়ের পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়।

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে (এসপি) অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চামগাড়িতে দায়িত্বরত সকল পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেয় আদালত। আদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, জন প্রশাসন সচিব, আইজিপি এবং রংপুর বিভাগের ডিআইজিকে প্রতিবেদন দিতে বলে আদালত।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ। এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে ৬৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন আগুন দেয়ার ঘটনায় কিছু পুলিশ সদস্য জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং উক্ত ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এই আগুন লাগানোর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একজন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল জাজিরা’য় প্রদর্শিত ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দুই জন সাদা পোশাকধারী সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। তবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।’

ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চামগাড়ী বিল ও কুয়ারমারা এলাকায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে। সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার পরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে মাদরপুর ও জয়পুর গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে সাক্ষীরা স্থানীয় অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। তাছাড়া কোন কোন সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরা থাকায় তাদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকাটাইমস/০৯মার্চ/এমবি/ডব্লিউবি

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে: নাহিদ ইসলাম
শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদের নতুন কমিটি গঠন
নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা