ছুটির দিন এলাকায় থাকছেন নির্বাচনে আগ্রহী নেতারা

সরকারের মেয়াদপূর্তিতে নির্বাচন হলেও সেটা আরও দেড় বছরের ব্যাপার। কিন্তু নির্বাচনে আগ্রহী রাজনৈতিক নেতারা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন এখনই। এলাকায় নেতা-কর্মী আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তারা। প্রায় সপ্তাহেই ছুটির দুই দিন মনোনয়নে আগ্রহী নেতাদের একটি বড় অংশই সময় কাটাচ্ছেন নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে নির্বাচনী ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে গত অক্টোবর থেকেই। দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক নানা বিষয়ে যত কথা হয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নেতা-কর্মীদেরকে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর তাগাদা দিচ্ছেন। তিনি নিজেও ভোট চাইছেন বিভিন্ন জেলা সফরে কর্মসূচিতে। বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় ফিরলে কী দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে-সেটা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন দেশবাসীকে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সর্বশেষ সভায়ও সবাইকে আরও জনসম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, তা মানুষকে অবহিত করতে হবে। জনসম্পৃক্ত না থাকলে আগামীতে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’
দলীয় প্রধানের এমন বক্তব্যের পর এলাকায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে এলাকামুখী হয়েছেন অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মনোনয়নে আগ্রহী নেতারা।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচন করতে হলে কেবল মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে চলে না। এলাকাতেও নিজের পক্ষে আওয়াজ তুলতে হয়। কর্মী-সমর্থকদেরকে কাছে টানতে হয়, তাদের সুখ-দুঃখ বুঝতে হয়। সর্বোপরি ভোটারদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে আস্থা বাড়াতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন, যাদের আমলনামা ভালো হবে, তারাই মনোনয়ন পাবেন। আর এই আমলনামা আছে শেখ হাসিনার হাতে। ছয় মাস পর পর এগুলো হালনাগাদ করা হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই হালনাগাদ করা হচ্ছে তিন মাস পর পর।
গত ২ মার্চ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সময় দেন ত্রাণ ও দূযোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গত শুক্রবার ও শনিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেও তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। শুক্র থেকে সোমবার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে রয়েছে।
আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও জয়পুরহাটের নিজ নির্বাচনী এলাকা সফর করেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি প্রতি সপ্তাহেই নির্বাচনী এলাকায় থাকছেন। শুক্রবার সকালে তিনি চাঁদপুর সদর ও হাইমচর পরিদর্শনে যান। শনিবারও তার সেখানে নানা কর্মসূচি রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ৮ মার্চ নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ গত ৩ মার্চ থেকে তিন দিন নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের ভাঙা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনে কাটিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেও শুক্র ও শনিবার তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের ঘোষণা আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রতি মাসেই গড়ে তিনবার সিরাজগঞ্জে তার নির্বাচনী এলাকা সফর করছেন।
গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনও গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো কাটাচ্ছেন মিরসরাইয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায়।
নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনও। সরকারের এ জনপ্রিয় মন্ত্রী তাঁর ফরিদপুরে সরকারের নানা কর্মসূচি ছাড়াও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের দলের সংসদ সদস্যরা নিয়মিতই এলাকায় যান। সেখানে তাঁরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে দলীয় কর্মকান্ডও পরিচালনা করেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই নিয়মিত আমরা সংসদীয় এলাকা (গোপালগঞ্জের মকসুদপুর-কাশিয়ানি) সফর করি। এলাকার জনগণের সাথে কথা বলি এবং দলীয় সভা-সমাবেশে অংশ গ্রহণ করি।’
(ঢাকাটাইমস/১১মার্চ/টিএ/ডব্লিউবি )
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































