বাঘাইছড়ির ৮ হত্যা

স্বাভাবিক হয়নি পরিবেশ, তদন্ত দল যাচ্ছে কাল

রাঙামাটি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৭

রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো এলাকার পরিবেশ স্বাভিাবিক হয়নি। আজ বুধবারের সাপ্তাহিক হাটে আসেনি পাহাড়িরা। 

বাঘাইছড়ি সাত হত্যায় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত দল কাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।

এদিকে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার হত্যার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাঙামাটি পৌর প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বক্তারা হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএসকে দায়ী করেন। তারা বলেন, দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না নিলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের রাঙামাটি সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, যারা এসব হত্যাকা- ঘটাচ্ছে আর যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, এরা সন্ত্রাসের মদদ দিচ্ছে।  প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে দীপংকর বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আশা করি এ ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি ফিরোজা বেগম চিনু, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অংসুুচাইন চৌধুরী, রাঙামাটি সদর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শহিদুজ্জমান রোমান, সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি হৃদয় রঞ্জন চাকমা।

মঙ্গলবার সকালে সুরেশ কান্তি তার পরিবারসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ফারুয়া ইউনিয়নের ফারুয়া থেকে বিলাইছড়ি সদরে যাওয়ার পথে তাকে নৌকা থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় এখনো কোনো  মামলা হয়নি।

এর আগের দিন সোমবার উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ৭ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন।

এই দুই হত্যাকাণ্ডের পর থমথমে হয়ে পড়া পরিবেশ এখনো স্বাভাবিক হয়নি বাঘাইছড়িতে। বুধবার হাটের দিন হলেও বাজারে আসেনি পাহাড়িরা। জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

 

তদন্ত দল ঘটনাস্থলে আসছে কাল

বাঘাইছড়ির ঘটনায় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত দল কাল বৃহস্পতিবার বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং স্থানীয় লোকজন ও হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলবে।

মঙ্গলবার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

জেএসএসের বিবৃতি

বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেএসএসকে (জনসংহতি সমিতি)  দায়ী করায় এর প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটির তথ্য প্রচার বিভাগের বিনয় কুমার ত্রিপুরার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী কর্তৃক বাঘাইছড়ির নয় মাইল এলাকায় ব্রাশফায়ার করে  ৮ জন নিরীহ নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা ও অনেককে আহত করা হয়।

এ ছাড়া ১৯ মার্চ সকালে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করে।

এই দুই ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলে মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলকভাবে জেএসএসকে দায়ী করায় জেএসএস গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়ার আগে এ ঘটনায় মনগড়া ও কাল্পনিকভাবে জেএসএসকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবে যুক্তি ও বাস্তবসম্মত হতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্য প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সুষ্ঠু তদন্তকে যেমন বাধাগ্রস্ত করবে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। এসব ঘটনায় জেএসএস কোনোভাবে জড়িত নয়।

এ সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত অপরাধীদের যথাযথ বিচারের দাবি জানিয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত