মানহীন খাদ্য ও অপুষ্টি

৩৬ শতাংশ যুবকের উচ্চতা হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ মে ২০১৯, ২০:৩৫ | প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৯, ২০:১৭

দেশের ৩৬ শতাংশ যুবকের বয়স অনুপাতে উচ্চতা হচ্ছে না। আর ৩৩ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। আর এর জন্য খাদ্যের মান নিশ্চিত করণ ও কৃষিতে যান্ত্রিকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের জন্য জনগণের আয় বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার ফার্মগেটস্থ বিএআরসি কনফারেন্স রুম এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেমিনারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক ফলমুল বা শাকসজিতে নির্ভুলভাবে ফরমালিন শনাক্ত করার জন্য 'হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (এইচপিএলসি) যন্ত্র ব্যবহারে তাগিদ দেন। বলেন, এইচপিএলসি যন্ত্র ছাড়া সঠিকভাবে ফরমালিন সনাক্ত সম্ভব নয়।

বিসেফ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্য সহায়ক বাজেট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ অতিথি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।
মাহফুজুল হক বলেন, এখনও দেখা যায় সরকারে বিভিন্ন সংস্থা ফলমূলসহ শাকসবজিতে এইচপিএলসি যন্ত্র ছাড়া ফরমালিন পরীক্ষা করছে। এতে জনমতে ভিতির সৃষ্টি হয়। জনগণ ফল খেতে ভয় পায়। ফলমূল, শাকশব্জি খেতে আতঙ্কে ভোগে।

এ সময় তিনি সিটিকরপোরেশনসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারের পরিবেশ উন্নয়নে সরাকারের সহায়তা কামনা করে বলেন, ব্যবসায়ীদের এখন আমরা জানিয়ে দেই কিভাবে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের দেশের ৩০ ভাগ শিশুই অপুষ্টির শিকার। নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার কারণে এটা হয়েছে। পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবারের জন্য অর্থের প্রয়োজন। আমাদের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলারের মতো। এ অর্থদিয়ে কিভাবে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার খাওয়া সম্ভব প্রশ্ন রাখেন তিনি। বলেন, তাই আমাদের আয় বাড়াতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্যকে কেন্দ্র করে  আমাদের কাজ করা উচিৎ। এখান সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি যে সংখ্যা আছে তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। যে কোন মূল্যে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর , স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়সহ  খাদ্যের মান নিয়ে যারা কাজ করে তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী জানান, নিরাপদ খাদ্যের ব্যপারে সরকার জিরো টলারেন্সে নীতি গ্রহণ করছে।

সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, ৩৩ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। ৩৬ শতাংশ যুবকের বয়স অনুপাতে উচ্চতা হচ্ছে না। আমাদের সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। আর এর জন্য কৃষিতে যান্ত্রিকরণ করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে বলে কৃষিতে বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। আসলে প্রয়োজন যে বাজেট দেয়া হয় সেটা খরচের সক্ষমতা তৈরি করা। আমাদের বাজেটে কোন সমস্যা নেই। বাজেট বাড়ানো সমস্যা নয় সমস্যা দক্ষতা বাড়ানো।

মূল বক্তব্যে বিসেফ ফাউন্ডেশনের সহ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, রমাজন মাসেও ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালিত অভিযানে এমন তথ্য বের হয়ে এসেছে যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দুধে ক্ষতিকর মেটাল, এন্টিবায়োটিক, মেয়াদ ভোজ্য তেল নিয়ে অপকারবার, পচা ও বাসি মাছ-মাংস, ধূরাবালি মেশানো খাবার  এগুলোতে মানুষের মধ্যে খাদ্য নিয়ে আতংক বেড়েছে। তারপর আবার হাইকোর্টে যখন নিষিদ্ধ করা হলো নামী দামি কোম্পানির অনেক ব্রান্ড পণ্য। এখন মানুষ উদ্বিগ্ন তারা কি খাবে বা খাবে না।

এ সময় তিনি কৃষি ভিক্তিক শিল্প স্থাপনের মনোযোগ দেয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এবং বাজেটে পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য সহায়ক বাজেট প্রনয়নে ১০ টি প্রস্তাবনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ কার্যক্রম বরাদ্দ বৃদ্ধি করা।

এই খাতে অনুদন প্রদানকে ‘কর রেয়াত’ সুবিধা দেয়া। পিপিপির আওতায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন সহায়ক প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট সিস্টেম গড়ে তোলা ইত্যাদি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন পর্যায়ে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে সরকার নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ প্রণয়ন বর্তমান সরকাররে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু শুধু আইনের প্রয়োগ নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করছে না। এর জন্য নিরাপদ খাদ্য ফাউন্ডেশন গঠন করাসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। আর সকলের জন্য পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গিকার। এই অঙ্গিকার পূরণে আসন্ন জাতীয় বাজেটে যথাযথ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।

ঢাকাটাইমস/১৪মে/জেআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :