প্রতিযোগিতার বিশ্বে প্রয়োগমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

তানিয়া আক্তার
 | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০

পৃথিবী বদলে দেওয়ার বড় হাতিয়ার শিক্ষা। এক্ষেত্রে প্রয়োগমুখী শিক্ষাকে এগিয়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধারাকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করছে ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’। এর তত্ত্বাবধায়নে গুরু দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর কেটেছে অধ্যাপনায়। পাঠদান করেছেন ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সম্প্রতি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা টাইমস-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানিয়া আক্তার। 

নবীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির লক্ষ্য সম্পর্কে বলুন।
উচ্চশিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রয়োগমুখী শিক্ষাকে অবলম্বন করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে দরকার বাস্তবসম্মত প্রয়োগমুখী শিক্ষা। যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করছে, তাই নবীন হিসেবে আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজেদের টিকিয়ে রাখতে প্রয়োগমুখী শিক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাব।

উচ্চশিক্ষায় গুণগত মানোন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন? 
উন্নত দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দরকার শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা। এজন্য আমরা আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও শ্রেণি-ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছি। এখানকার কারিকুলামগুলো ডিজাইন করা হয়েছে বাস্তবভিত্তিক। প্রায় ৯৫ ভাগ শিক্ষকই শিক্ষকতায় বেশ অভিজ্ঞ। সেই যোগ্যতাসম্পন্ন অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা প্রয়োগমুখী শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক দ্বারা ইফেক্টিভ টিচিং মেথডের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগেও স্বচ্ছতা রয়েছে। আমরা যোগ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে থাকি সব সময়। শিক্ষায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করেছি। ফলে এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রতি ক্লাসের লেকচারগুলো ওয়েবসাইটেই পেয়ে যাবে। আর শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল-বেজড এডুকেশন প্রদান করছি। বেকারত্ব দূরীকরণে উদ্যোক্তা-সম্পর্কিত শিক্ষাদান দেওয়া হচ্ছে। 

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এ দেশে কোন ধরনের সমস্যা প্রকট বলে মনে করেন?
এদেশে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া কঠিন। কারণ নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষা-গবেষণা কম হয়। দেশের বাইরেও গবেষণার জন্য যে শিক্ষার্থীরা যায়, তারা দেশে ফেরে না অনেকেই। ফলে যোগ্য শিক্ষক সমস্যায় ভুগছে দেশ। অথচ উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষায় অ্যাপ্লিকেশন ওরিয়েন্টেড শিক্ষা দিয়ে যোগ্য শিক্ষক তৈরি করে। এছাড়া উন্নত গবেষণাগার, আধুনিক লাইব্রেরিসহ অবকাঠামোগত সমস্যা তো রয়েছেই। ফলে এ দেশে উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আমরা যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার চেষ্টা করছি। যেমন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আন্তর্জাতিক জার্নালের এডিটর বা চিফ এডিটর হিসেবে কাজ করছেন। ফলে গবেষণা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততায় রিসার্চ ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুবিধা রয়েছে?
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির শতকরা ৪০ ভাগ সব শিক্ষার্থীর ওয়েভার দেওয়া হয়। আবার সেমিস্টারের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মেধাবৃত্তিও দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সুন্দরভাবে চালানোর জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও নেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে আগ্রহী?
এশিয়ার মধ্যে প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেখতে আগ্রহী। একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হতে গেলে তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত হতে হবে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা ফলপ্রসূ প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পেয়ে বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা যেন দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষকের অভাব পূরণ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাব অবিরত।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ঢাকা টাইমস এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :