বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের বিমা বাধ্যতামূলক

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:১৫
ফাইল ছবি

কাজের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গমনেচ্ছুদের জীবন বিমা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আর এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই বিমার আওতায় দুই বছরের মধ্যে কোনো কর্মী মারা গেলে অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই বীমা করতে হবে। বিদেশে মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা এই বীমার আওতায় দুই লাখ টাকা পাবেন। বীমা প্রিমিয়াম হবে ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ টাকা দেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বিদেশগামী কর্মীকে দিতে হবে ৪৯০ টাকা। বিদেশেই দুই বছর মেয়াদি এ বীমার মেয়াদ নবায়ন করা যাবে।

তবে এক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থান করা প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে যারা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নির্ধারিত চাঁদা দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ বীমা করপোরেশন বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের এ বীমা সেবা দেবে।

অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও এটাকে ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। বায়রার সভাপতি বেনজীর আহামদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এটা সরকারের একটা ভারো উদ্যোগ। যারা কর্মী হিসেবে দেশের বাহিরে যাচ্ছে তাদের জন্য একটা ছোট গ্যারান্টি হবে এটা। এরকম উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।’

প্রতি বছর বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান অসংখ্য বাংলাদেশি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী কাজ করতে যান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। দুভাগ্যবশত এদের অনেকেই সেখানে গিয়ে মারা যান অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যারা বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান তাদের পরিবারের একমাত্র আয়েক উৎস সেই মানুষটি। কোনো কারণে এমন দুর্ঘটনায় পতিত হলে তার সেই পরিবারটি হয়ে পড়ে দিশেহারা। 

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি বছরের আট মাসে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ৬১১জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মীদের বীমা সেবার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিদেশগামী কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে বীমার আওতায় আনা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছর মেয়াদি বীমার বাইরে বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা সুবিধার আরেকটি বীমা করার সুযোগ রয়েছে। যেটা আগে থেকেই চালু ছিল।

দুই বছর মেয়াদি এ বীমায় প্রবাসে যাওয়ার পর কেউ মারা গেলে বা শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে তার পরিবার বা তিনি পাঁচ লাখ টাকা পাবেন। এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৪৭৫ টাকা, যার ৫০০ টাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। বাকি এক হাজার ৯৭৫ টাকা বিদেশগামী কর্মীদের পরিশোধ করতে হবে।

নতুন করে চূড়ান্ত হতে যাওয়া বাধ্যতামূলক এই জীবন বীমা প্রক্রিয়াকে সুফল হিসেবে দেখছেন বিদেশগামীকর্মীরা। এ বিমা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা হয় সৌদি প্রবাসী আব্দুল বাতেনের সঙ্গে।

বাতেন বলেন, ‘আমরা যারা বিদেশে কাজ করি তাদের জন্য এটা একটা সুখবর। কারণ আল্লায় না করুক ওখানে আমার একেটাকিছু হয়ে গেলে যদি বীমাটা করা থাকে আমার পরিবারতো কয়টা দিন চলতে পারবে।’

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/এনআই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :