ছোট দলে বড় দ্বন্দ্ব-২

‘মুক্তিমঞ্চ’ নিয়ে কল্যাণ পার্টিতে অস্থিরতা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৫০ | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৮
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির একটি অনুষ্ঠান (ফাইল ছবি)

সেনাসমর্থিত এক-এগারোর সময় প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নিয়মমাফিক কর্মসূচিতে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নিজেদের দৃশ্যমান রাখা দলটি একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। অনেকটা ‘নিভু নিভু’ করছে দলটির অস্তিত্ব।

কয়েক মাস আগে ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে দল ছেড়েছেন মহাসচিব এম আমিনুর রহমান। শোনা যাচ্ছে, এলডিপির প্রধান অলি আহমদের  ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ তৈরি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছে কল্যাণ পার্টিতে। ক্ষোভ বিরাজ করছে দলটির স্থায়ী কমিটি, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে। শিগগিরই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন তারা। তাতে কোনো সমাধান না হলে একাধিক শীর্ষ নেতার দল ছাড়ার আশঙ্কা আছে।

গত ২৭ জুন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় সংসদ নির্বাচন আয়োজন ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নতুন একটি প্লাটফর্মের ঘোষণা  দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

অন্য অনেক শরিকের চেয়ে ছোট দল হলেও জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় সৈয়দ ইবরাহিমকে। গুরুত্বপূর্ণ এই নেতাকে ইদানীং জোটের বৈঠকে দেখা যাচ্ছে না। আবার জোটের প্রধান দল বিএনপি থেকেও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন তিনি। এ ব্যাপারে তার দলের নেতাদের মধ্যে নানা আলোচনা আছে। তার এই দূরত্ব বজায় রাখার পেছনে জোটের শরিকদের চেয়ে ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপির বেশি গুরুত্ব দেয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন সৈয়দ ইবরাহিমের ঘনিষ্ঠজনরা।

কল্যাণ পার্টির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কয়েকটা দিন অপেক্ষা করেন। নতুন খবর পাবেন। কারণ দলের ভেতরের পরিস্থিতি অনেকটা হ-য-ব-র-ল।’

কোন ধরনের খবরের অপেক্ষা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দলে এত নেতা, কারও সঙ্গে কথা না বলে চেয়ারম্যান এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাহলে অন্যদের থাকার দরকার কি।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় থেকেই জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল বিএনপির, যা নির্বাচনের পর আরও প্রকট হয়। এ নিয়ে শরিকদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে বক্তব্যও দেন। বিশেষ করে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ এবং তার দলের একাধিক নেতা বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন।

সবশেষ অলি আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় মুক্তি মঞ্চ। কল্যাণ পার্টি, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দলের নেতাদের এতে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও বিএনপি জোটের কর্মসূচির প্রতি এদের অনীহা দেখা গেছে।

এমনকি দীর্ঘ চার মাস পর গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে অংশ নেননি অলি আহমদ, সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। কিন্তু অলি আহমদের মঞ্চের একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গেছে তাকে।

এ ব্যাপারে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৈয়দ ইবরাহীম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য বৈঠকে যাননি। আর জোটে কোনো টানাপোড়েনও নেই। দলেও কোনো সমস্যা নেই।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপে কল্যাণ পার্টির একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের কণ্ঠে হতাশার সুর শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারোই মানসিক অবস্থা ভালো না। যেকোনো সময় সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ দল ছাড়তে পারেন।  দেখেন না এলডিপিতে ডিগবাজি চলতেছে। মহাসচিব ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলেও ভেতরে কোনো কারণ আছে কি না আমরা জানার চেষ্টা করছি।’

দলে এমন অস্থিরতা কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ কেন মুক্তি মঞ্চে গেলেন চেয়ারম্যান, এটা ছাড়া তেমন কিছু না। আরও ১০-১৫ দিন অপেক্ষা করুন। পরিস্থিতি কী হয় বুঝতে পারবেন।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যন সৈয়দ ইবরাহিমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 (ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :