ছোট দলে বড় দ্বন্দ্ব-৪

ভেঙে দুই ভাগ, জোটেও পাত্তা নেই লেবার পার্টির

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৫৯

লেবার পার্টি। দলটি ছোট। তার আবার দুটি অংশ। বিএনপি জোটের সঙ্গে রয়েছে একাংশ। অপর অংশ বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টে। তবে ভেঙে দুই ভাগ হওয়া দুই অংশই পাত্তা পায়নি জোটশরিক বড় দলের কাছে। দুই অংশের হাতেগোনা নেতাকর্মীরাই রয়েছেন অস্বস্তিতে। মাঠের রাজনীতিতে একেবারেই নিষ্ক্রিয় দলটি বড় জোটের ছোট ছায়াসঙ্গী হয়ে নামসর্বস্ব টিকে আছে। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তি পরিচয়ে টিকে থাকা অন্য ছোট দলগুলোর মতোই অবস্থা লেবার পার্টির।

১৯৭৪ সালে মাওলানা আবদুল মতিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত লেবার পার্টির একখণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। আরেক খণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানকে বহিষ্কার করে আসা হামদুল্লাহ আল মেহেদী। যদিও প্রতিষ্ঠাতা মতীনের মৃত্যুর পর থেকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন ইরানই।

ভাঙনের ফলে হাতেগোনা নেতাকর্মীরাও হয়েছেন বিভক্ত। নেই কোনো কর্মসূচি। বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে থাকলেও জোটের কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ থাকে না তেমন। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে অস্বস্তি।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো লেবার পার্টিও নিষিদ্ধ হয়। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দলটি আবার রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। সেসময় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দেয় দলটি। মাওলানা মতীনের মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ২০১২ সালের ১৮ই এপ্রিল ১৮ দলীয় জোট গঠন হলে তার নেতৃত্বে বিএনপি জোটে অংশ নেয় লেবার পার্টি।

জোটে যাওয়ার পাঁচবছর পর পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর ভাঙন ঘটে দলে। লেবার পার্টির একটি অংশের দপ্তর সম্পাদক আমানুল্লাহ মহব্বত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তখনকার মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদীকে সরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিনকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সিদ্ধান্তের কথা জানান চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

এই বিবৃতি দেওয়ার পরপরই প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত আরেকটি বিবৃতিতে স্বেচ্ছাচারিতা, অনৈতিকতা এবং সংগঠন ও ২০ দলীয় জোট বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে চেয়ারম্যানসহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলের আরেক নেতা এমদাদুল হক চৌধুরীকে চেয়ারম্যান দেখানো হয় বিবৃতিতে। ওই অংশের পেছনে কাজ করেন মেহেদী। পরে দলটির চেয়ারম্যান হন হামদুল্লাহ আল মেহেদী আর মহাসচিব করা হয় আব্দুল্লাহ আল মামুনকে।

এ অবস্থায় ইরান ২০ দলের সঙ্গে এবং গত নির্বাচনের আগে গঠিত যুক্তফ্রন্টে যোগ দেন মেহেদীর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। তবে দুই দলই নিজেদের পক্ষে বেশিরভাগ নেতাকর্মী রয়েছেন বলে দাবি করছেন।

যদিও বাস্তবে নানা কারণে বিএনপি ও শরিক অন্য দলের নেতারা ইরানের সমালোচনা করেছেন। সবশেষ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে বিএনপিকে নির্বাচনের পরে আলটিমেটাম দিয়ে আলোচনায় আসলেও এ নিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েন ইরান। ওইসময় তার বক্তব্য ছিলো, ‘আমি যদি ২০ দলীয় জোটে না থাকি তাহলে আরও অন্তত ৪-৫ টি দল এই জোট থেকে বেরিয়ে যাবে।’ তার এই বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডকে বিএনপির হাইকমান্ড ভালোভাবে নেয়নি।

অনদিকে নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে আলোচনায় আসলেও রাজনীতির মাঠে যুক্তফ্রন্ট নেই বললেই চলে। তাই দলটির দুই অংশের নেতারা পুরোপুরি গুরুত্ব হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এক অংশের চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের দলের যেহেতু নিবন্ধন নেই তাই কে আসল কে নকল সেটা বলবো না। তবে এটা সত্য আমার সঙ্গে লেবার পার্টির বেশিরভাগ নেতা আছেন। তাদের নিয়ে আমি যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আছি। আর মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সঙ্গে শুধু একজন ভাইস চেয়ারম্যান আছে, যাকে তিনি মহাসচিব বানিয়েছেন।’

আর নিজের দলের ভাঙনের পেছনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ইন্ধন আছে এমন অভিযোগ করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি পার্টি করি ২০০০ সাল থেকে। মহাসচিব সময় দিতে পারেন না বলেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়েছিলাম। এই ভাঙনে সরকারি এজেন্সির ইন্ধন আছে।’

দলের বেশিরভাগ লোকজন মেহেদীর সঙ্গে আছেন- এমন মন্তব্যকে আমলে নিতে রাজি নন ইরান। তিনি বলেন, ‘কে কি বললো তাকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। মেহেদী নামে আমি কাউকে চিনি না। এটা আমলে নিতে চাই না। খোঁজ নিয়ে দেখেন তার কোনো অফিস আছে আছে কি না, কোনো কার্যক্রম আছে কি না।’

নিজে দল ও জোটে সক্রিয় আছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি অন্ধের মত করে যাচ্ছি। খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি সক্রিয় আছি। আর ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপির সঙ্গে যে কথা বলেছিলাম সেটা আলটিমেটাম নয়, একটা সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি নেতারা আমাদের পরিস্থিতি বুঝানোর কারণে আমরা সন্তুষ্ট হয়ে জানিয়ে দিয়েছি যে জোটেই আছি।’

(ঢাকাটাইমস/২১নভেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :