জেলা আ.লীগের নেতৃত্বে ঘুরেফিরে তারাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৩০

২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে সারা দেশে জেলা সম্মেলন করছে আওয়ামী লীগ। এসব সম্মেলনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরনো নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন দক্ষ সংগঠকের ওপর সব সময়ই আস্থা রাখে তারা। এ কারণে কয়েকটি জেলায় পুরনো নেতৃত্বকে বহাল রাখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত যে কয়টি কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছে, তাতে চমক দিয়েছে দলটি। পুরনো নেতাদের বদলে নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে নতুন মুখ। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছিল জেলা সম্মেলনেও কোনো কোনো জায়গায় এ রকম নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ জেলাতেই একাধিকবার টানা পদে থাকা নেতারাই আবার দায়িত্ব পেয়েছেন। দলের নেতারা বলছেন, তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা আর যোগ্যতার জন্যই তারা পদে রয়েছেন।

নোয়াখালী, ফেনী, যশোর ও কুষ্টিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জেলায় একসময় বিএনপির প্রভাব ছিল। কিন্তু সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগের দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এখন সেগুলো আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই জেলা সম্মেলনে পুরনো নেতাদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানান কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দায়িত্ব নেয়ার পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক চেহারার আমূল পরিবর্তন করে ফেলেন তিনি। একসময়ের বিএনপির ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এখন আওয়ামী লীগের হাতে। এরপর টানা দুই সম্মেলনে তার ওপর আস্থা রাখে আওয়ামী লীগ।

চলতি নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ অনুষ্ঠিত সম্মলনে তিনি তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খায়রুল আনাম চৌধুরী সেলিম।

জেলার নেতারা বলেন, একরাম চৌধুরীর মতো দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক আছেন বলেই নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের চেহারা পাল্টে গেছে। তিনি আওয়ামী পরিবারের সব সদস্যের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান।

টানা তিন মেয়াদে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন শাহীন চাকলাদার। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ২০০৪ সালে প্রথম তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে একই পদে পুনরায় নির্বাচিত হন। সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি টানা তিন মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এই জেলা কমিটিতে টানা দুই মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন শহিদুল ইসলাম মিলন।

একইভাবে টানা দুই মেয়াদে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নিজাম উদ্দিন হাজারী। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত জেলা সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ফেনী পৌরসভার মেয়র নিজাম হাজারী। এরপর ১০ম জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা সম্মেলনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে এই সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি পদে পরিবর্তন এসেছে।  প্রথমবারের মতো সভাপতি হন আকরামুজ্জামান।

টানা দুই মেয়াদে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তারা দুজন পুনরায় নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সদর উদ্দিন খানকে সভাপতি ও আজগর আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/৩০নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :