মুরাদনগরে ‘কিশোর গ্যাং’ আতঙ্ক

মো. মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
| আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০৪ | প্রকাশিত : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:৫০

কুমিল্লার মুরাদনগরে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উঠতি কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার'। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের ইভটিজিং, উচ্চস্বরে হর্ণ বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালানো, আধিপাত্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা প্রায় ঘটছে। গ্যাং সদস্যদের জন্মদিনের নামে গাছ এবং ল্যাম্পপোষ্টের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ডিম নিক্ষেপ ছাড়াও মাথায় আটা-ময়দা মাখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি উপজেলা সদরের ডি.আর উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ অভিভাবকরা।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তারেকুল ইসলামকে গোমতী নদীর পাড়ে নিয়ে হাত পা গাছে সঙ্গে বেঁধে মাথায় ডিম আটা মাখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এসময় তারেকুলের চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

শুধু তারেকুল নয়- গত তিন সপ্তাহে জন্মদিনের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দশম শ্রেণির রুহুল আমিন, নাইম, মাহাদি, ছাব্বির, রাজবির হোসেন রবিন। নবম শ্রেণির মাহিদুল ও কলেজ শিক্ষার্থী হৃদয়, নিজাম, নিশাত।

নির্যাতনের শিকার সবাই মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন জানান, মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম, রাহিল, মাহিদুল, শাকিল, রাজু, করিম। দশম শ্রেণির মাহমুদ, ফাহিম, আশিক, নাইম, ইয়াছিন, রাজা, রাব্বি, ছোট ইয়াছিন ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সাব্বির ইলিয়াস, হৃদয়, নাইম, মারুফ, সবুজ, জিসান, একে ফয়সাল, নিশাতের নেতৃত্বে গ্যাং গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন চালাচ্ছে।

গ্যাং গ্রুপ সদস্যদের অনেকের অভিভাবক প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখ। আবার অনেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফলে অপরাধ করলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পান। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডি.আর. উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান ও কাজী নোমান আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর আলম বলেন, ‘গ্যাং স্টার গ্রুপের সদস্যরা ছোটখাটো অপরাধ করতে করতে বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই এদেরকে সংশোধন করতে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে একটু খোঁজখবর রাখলে তাদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ ঘটনার কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি আমি দেখছি। অভিভাবকদের থানায় ডেকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হবে। তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে যদি কেউ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই এটি ফৌজদারি অপরাধ। আমরা স্কুল ও কলেজ প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যা করণীয় তাই করব।’

(ঢাকাটাইমস/৫জানুয়ারি/এসএস/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :