আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন সানাউল্লাহ মিয়া?

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৩:৪৪ | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২০, ১৩:৩৯
হাসপাতালে অসুস্থ সানাউল্লাহ মিয়ার পাশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

দলের পদ পদবীতে যতটা না এগিয়ে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনসহ মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ছিলেন তারও বেশি। প্রায় তিনযুগ ধরে আইনী পেশার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। অনেকের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ার নজিরও আছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মামলা নিয়ে আদালত চত্বরে ব্যস্ত সময় পার করতেন সদ্য প্রয়াত বিএনপির এই আইন বিষয়ক সম্পাদক।

তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, দলের জন্য নিবেদিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি এই আইনজীবী নেতা। গত নির্বাচনের পর এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদেরও কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন প্রকাশ্যে। শুধু তাই নয়, ছাত্রদলের সাবেক এক শীর্ষ নেতার কারণে এলাকায় খুব একটা তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাননি তিনি।

শুক্রবার রাতে সানাউল্লাহ মিয়া মারা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন। কেউ বলছেন, মনোনয়ন না পাওয়ার কষ্টের কারণেই হয়তো তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

দলের নেতাকর্মীরা শোক জানানোর পাশাপাশি বলছেন, দলের দুঃসময়ের সবাই আইনি সহায়তা পেলেও তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

শুধু তাই নয়, শুরু থেকে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতিসহ সব মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ২৫ মাস কারাভোগের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি অসুস্থ সানাউল্লাহ মিয়ার।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে ঢাকা সিটি কলেজে ল’পড়ার সময়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সানাউল্লাহ মিয়া। এরপর ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন তিনি। ১৯৮২ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে করা হয় ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য।

১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ আইনজীবী হওয়ার পর ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের সহ-আইন সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে মহানগরের আইন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে তিন মাসের জন্য ঢাকা জজকোর্টে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) করা হয় তাকে। তখন তার দায়িত্ব ছিলো সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা।

দলের জন্য আইন অঙ্গণে ও রাজপথে সক্রিয় সানাউল্লাহ মিয়া নিজ এলাকা নরসিংদী-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের দেখা পাননি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সানাউল্লাহ মিয়া এবং তার অনুসারীরা। কিন্তু এবারও ভাগ্যের সিকে ছেড়েনি।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে সানাউল্লাহ মিয়া ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম। তিনজনের মনোনয়ন বৈধ হলেও শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর এলাহীকে বেছে নেয় দল।

গতবছরের ৪ জানুয়ারি গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সেখানে সানাউল্লাহ মিয়াকে মনোনয়ন না দেয়ার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর। স্থায়ী কমিটি ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ শাহজাহান ওমর বলেন, নরসিংদী-৩ আসনে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াকে কেন নমিনেশন দেয়া হলো না? আজ সে স্ট্রোক করে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সেখানে যাকে নমিনেশন দেয়া হয়েছে সে আজ কোথায়?’

‘ধানের শীষ’ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত তার মৃত্যুর পর ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, যে অভিমান বুকে চেপে চলে গেলেন খাঁটি জাতীয়তাবাদী নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, তা যেন আর কারো কপালে না আসে। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আকন্দ আলাদা পোস্টে লিখেছেন, ‘পরপারে ভালো থাকবেন সবার প্রিয় সানা ভাই। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন। দলের দুঃসময়ে জীবনবাজি রেখে নিজেকে উজাড় করে দিলেও আপনার দল আপনাকে কতটুকু মূল্যায়ন করেছে সে প্রশ্নটি হয়ত থেকেই যাবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৮মার্চ/বিইউ/ এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :