এসে গে‌লো ক‌রোনার প্রতি‌ষেধক!

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৪০ | প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৬

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের ভয়াল গ্রাসে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। মানব সভ্যতার সামনে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস। কীভাবে এর প্রতিষেধক তৈরি করা যায় এবং সাফল্য কতদূর তা নিয়ে দ্রুত কাজ করছে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের বিজ্ঞানী, গবেষকরা করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতে ব্যস্ত। এখনও পর্যন্ত সেভাবে সাফল্য আসেনি। কিন্তু চীনের গবেষকদের দাবি, তারা করোনাকে কাবু করার সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছেন। যা কিনা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত উপকারি হতে পারে।

চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দল করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করার মোক্ষম পথ পেয়ে গিয়েছে। কোনও ওষুধ বা টিকা নয়, চীনা গবেষকরা তৈরি করেছেন একটি ন্যানোমেটেরিয়াল। যা কিনা করোনার জীবাণু শুষে ফেলতে পারে বা এর কার্যক্ষমতা ৯৬.৫-৯৯.৯% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

এই ন্যানোমেটেরিয়ালটি উৎসেচকের মতো কাজ করে। এই ন্যানোমেটেরিয়াল দিয়ে পেন্ট, ফিল্টার, ইনসুলেশনের মতো জিনিস তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই চীনের ওই গবেষকদল নাকি বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথা বলছে এই ন্যানোমেটেরিয়াল দিয়ে মাস্ক এবং চিকিৎসকদের জন্য PPE বানানর জন্য।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্ভাব্য ওষুধ খুঁজতে গিয়ে কার্যকর অ্যান্টিবডি পেয়েছেন। আলাদা করে ফেলা এসব অ্যান্টিবডি নতুন করোনা ভাইরাসকে কোষে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

বেইজিংয়ের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাং লিংকি জানিয়েছেন, তার দলের সন্ধান পাওয়া অ্যান্টিবডি দিয়ে তৈরি ওষুধ বর্তমান পদ্ধতির চেয়ে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিকে তিনি ‘বর্ডারলাইন’ বা ‘সীমান্তরেখা’ বলছেন। এর আগে এ রকম প্লাজমা বা রক্তরস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন এ বিজ্ঞানী।

অপরদিকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে শিশুদের উপযোগী জিনিসপত্র প্রস্তুতকারক সংস্থা জনসন অ্যান্ড জনসন। সম্প্রতি এই ঘোষণার পরেই জনসন অ্যান্ড জনসনের শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বানানো শুরু করবে তারা। আগামী বছরের গোড়ার মধ্যে ওই ওষুধ হাতে এসে যাওয়ার কথা। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই মানুষের ওপর ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে। যদিও জনসন আদতে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা নয়। তা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথম এগিয়ে আসা সংস্থাগুলোর মধ্যে এটি একটি।

জনসন অ্যান্ড জনসনের সিইও অ্যালেক্স গোরস্কি জানান, এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সঙ্কট চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন তৈরিতে আমাদের দিক থেকে যতটা সম্ভব তা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিন তৈরির পরিকাঠামো ও ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

করোনার হানা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অনেক কোম্পানি ও বিভিন্ন দেশ এর ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপে মানুষের ওপর পরীক্ষা করেছে। চীনও প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে। এরই মধ্যে চীনের তৈরি ভ্যাকসিন দেশের বাইরেও পরীক্ষার কথা ভাবছে বেইজিং। চীনের এক গবেষক সম্প্রতি জানান, ভাইরাসের কেন্দ্র উহানে পরীক্ষা সফল হলে অন্যান্য দেশেও তা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সদস্য চেন ওয়েই জানান, সরকারের অনুমতি অনুসারে গত ১৬ মার্চই উহানে ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এপ্রিলে তার ফলাফল হাতে আসার কথা। চীনে থাকা বিদেশিদের ওপরেও ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানান চেন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষার পরে ভ্যাকসিন যদি সুরক্ষিত ও সফল প্রমাণিত হয়, তবে তা পরীক্ষার পরবর্তী ধাপগুলিতে নিয়ে যাওয়া হবে। বিশ্ব জুড়ে যা পরিস্থিতি, তাতে এটি কাজ করলে কোভিড-১৯ অতিমারি অনেকটাই রুখে দেওয়া যাবে।

চিকিৎসকরা বর্তমানে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ পরীক্ষা করে দেখছেন, সেগুলো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কি-না। এই ওষুধগুলো যেহেতু মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত, তাই এক্ষেত্রে গবেষণা দ্রুতগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

আক্রান্ত দেশগুলোর হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা চলছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডক্টর ব্রুস এডওয়ার্ড বলেন, আপাতত একটি ওষুধই কার্যকর বলে আমরা মনে করছি। তা হলো রেমডেসিভির।

এটি ইবোলার ওষুধ হিসেবে প্রস্তুত হলেও বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস মারতে বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ওষুধের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আমরা এখনও অপেক্ষমাণ। বিজ্ঞানীরা আশা করছিলেন, এইচআইভি'র ওষুধ (লোপিনাভির ও রিটোনাভির) করোনাভাইরাসের বিপক্ষে কার্যকর হবে। কিন্তু এ ওষুধ দু'টোর পরীক্ষার ফল ছিল হতাশাজনক।

মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করোনাভাইরাসের রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার কমানো, ভাইরাসের পরিমাণ কমানো অথবা আরোগ্য, কোনোটিই অর্জন করা যায়নি এ ওষুধের মাধ্যমে। তবে যেহেতু এ ওষুধের পরীক্ষা মারাত্মকভাবে অসুস্থ রোগীদের মধ্যে চালানো হয়েছিল, (যাদের প্রায় চারভাগের একভাগ মারা যায়) এমনও হতে পারে, এটি সংক্রমণের ওই পর্যায়ে রোগীদের শরীরে কাজ করে না।

ম্যালেরিয়ার প্রাচীন এবং সস্তা ওষুধ ক্লোরোকিন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে কি-না, সেই বিষয়ে জল্পনা ছিল। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ ওষুধ ভাইরাসটিকে মারতে সক্ষম। তবে রোগীর শরীরে থাকা ভাইরাস এটি মারতে পারে কি-না, সেই পরীক্ষার ফল জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে এ ওষুধের পরীক্ষা চলছে।

প্রতিষেধক সংক্রমণ রোধ করে এবং এ মুহূর্তে সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। আপনি যদি করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হন। তবে অধিকাংশ মানুষের জন্যই এটি সাধারণ একটি অসুখ হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেক্ষেত্রে ঘরে বিশ্রাম, প্যারাসিটামল এবং প্রচুর পরিমাণ পানি পানের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। তবে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে অস্ট্রেলিয়ার অগ্রগতি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে দেয়া হবে যাতে এটি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হয়।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে এগিয়ে এসেছে লন্ডন ভিত্তিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো। তারা ঘোষণা দেয়, তামাকজাতীয় গাছ থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করছে তারা। প্রথাগত উপায়ের চেয়ে তামাকজাতীয় গাছ থেকে দ্রুত ও নিরাপদ ভ্যাকসিন তৈরি সম্ভব।

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির কাজ নতুন ধরনের, কম পরীক্ষিত পদ্ধতিতে করা হচ্ছে, যেটিকে 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে' প্রতিষেধক বলা হয়। যেহেতু করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড বিজ্ঞানীদের হাতে। তাই করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক খুব দ্রুত মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে যাবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/৩এপ্রিল/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :