দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে

দিনটি নীরবেই চলে গেল। কেউ তাদের কথা মনে করলো না। তা ছাড়া দেশ এমনিতেই করোনা ভাইরাসজনিত বিপর্যয়ের মুখোমুখি।
কিন্তু ভুললে চলবে না, একজন দু’জন নয় প্রায় দেড় লাখ মানুষ ( ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি) প্রাণ হারিয়েছিল সেদিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল এক কোটি মানুষ।
শুধু উপকূলীয় এলাকার জনগণ নয়, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী। নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিমান বাহিনীর ৩০-৩৫টির মত যুদ্ধ বিমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। অথচ ২৩ এপ্রিল থেকে দেশ বিদেশের রেডিও টিভিতে আবহাওয়ার সতর্ক বার্তা প্রচার করা হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিট ( সর্বোচ্চ) উড্ডয়ন সময় দূরত্বে অবস্থিত রাজধানী ঢাকায় বিমানগুলো উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়নি।
শুধু সীমাহীন অবহেলার কারণে নৌ ও বিমান বাহিনীর শত শত কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট হয়। এর মধ্যে ছিল রাশিয়া থেকে নতুন আমদানীকৃত বক্সে ভর্তি করা ৪টি হেলিকপ্টার। জলোচ্ছ্বাসের প্রচন্ড আঘাতে গোডাউনের গেট ভেঙে পানিতে ভেসে বক্সগুলো রাস্তায় চলে আসে।
২৩ এপ্রিল তারিখে বঙ্গোপসাগরে প্রথম লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ৫ দিনে পর্যায়ক্রমে এটি হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। তারও পরদিন এটি বাংলাদেশ উপকূলে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে আঘাত হানে। কিন্তু আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
তাদের এই উদাসীনতা ও কর্তব্যপালনে শৈথিল্যের প্রধান কারণ ছিল দেশের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, চরম অব্যবস্থাপনা ও কর্তব্য পালনে অবহেলা।
আলী কবীর: সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































