লকডাউনের ক্ষতিপূরণ চান অটোরিকশা শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২০, ২০:৫৩

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে দুই মাস ধরে চলা অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন থাকা অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক অনেকটাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে লকডাউন তুলে দেয়া হলেও গত দুই মাসের ক্ষতি পোষাতে অনেকটাই বেগ পেতে হবে শ্রমিকদের। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও আর্থিক প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতা আশা করছে অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে বাংলাদেশ অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি না করেও শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা যেত। বরং ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রী-শ্রমিকদের মধ্যে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। যা সামাজিক বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে পারে। ২৬ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাকাও বন্ধ হয়েছে। এর সাথে যুক্ত বন্ধ হয়েছে চালকদের সংসারের চাকা। লকডাউনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেহনতি মানুষের জন্য বিভিন্ন ত্রাণ ও আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণার জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সরকারের পক্ষ থেকে অনেক ত্রাণ ও আর্থিক প্রণোদনার কথা থাকলেও সেগুলো কোথায় ও কীভাবে বিতরণ হলো বুঝতে পারলাম না। অথচ এই করোনা ভাইরাসটি ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’ হিসেবে পরিণত হয়েছে- যা আপনারাও অবগত আছেন।’

চাঁদাবাজি বন্ধ্যের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘যে চাঁদা সংগঠন বা শ্রমিক কল্যাণ বয়ে আনবে না, সেই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। সংগঠনের চাঁদা আর চাঁদাবাজি এক কথা নয়। পরিবহন শ্রমিকরা বেঁচে থাকলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি জেলায় চালকদের পক্ষ থেকে ত্রাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অধিকাংশ জেলায় ত্রাণ পাওয়া যায়নি। এই জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের উদাসীনতার কারণে তারা আজ অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।’

সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক জামিউল ইসলাম ডালিম বলেন, ‘আমাদের ফেডারেশনসহ হালকাযান (ত্রি-হুইলার) নিজ নিজ জেলার শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের সাধ্যমত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। করোনাভাইরাস ঝুঁকির মধ্যে আজ পরিবহন শ্রমিকরা নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। এই চালক শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পোশাক দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে যেকোনো মুহূর্তে চালক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই প্রত্যেক চালক-শ্রমিককে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পোশাক ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক জামিরুল ইসলাম ডালিম, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন মুজিব, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ পিন্টু, ফারুক আহমেদ এবং ফেডারেশনের উপদেষ্টা মোস্তফা আলমগীর রতন উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০৩জুন/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :