শস্য ও ফসল চাষের ঋণে আগ্রহ নেই ২৮ ব্যাংকের

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২২:২১ | প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট ২০২০, ২২:১৯

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কৃষি খাতে শস্য ও ফসল চাষের জন্য কৃষক পর্যায়ে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো নির্দেশনা দেয়া হয় গত এপ্রিলে। কিন্তু এ নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে ২৮ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো কেন আগ্রহ দেখাচ্ছে না তার কারণ খুঁজে সমাধানের চেষ্ঠা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, মহামারি নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় আমদানি বিকল্প ফসলগুলোর পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান, গমসহ সব দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাক-সবজি ও কন্দাল ফসল চাষের জন্যও সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনা হিসেবে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত এ সুবিধা দেয়া হয়। বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত সুদ-ক্ষতি বাবদ ৫ শতাংশ হারে সুদ-ক্ষতি প্রদান করবে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো এ ঋণ বিতরণের বিপরীতে ৯ শতাংশ সুদ পাবে। কিন্তু এ ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশী মালিকানার মোট ৫৫টি ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হলেও গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে মাত্র ২৭ ব্যাংক। বাকি ২৮ টি ব্যাংক এক টাকাও বিতরণ করেনি।

ব্যাংক এ ঋণের বিতরণের বিপরীতে ৯ শতাংশ সুদ পাবে তারপরও কেন বিতরণ করছে না, তার কারণ খতিয়ে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ফোন দেয়ার পাশাপাশি, শাখা পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খুব শিগগিরি এ ঋণ বিতরণের পরিমান বাড়বে বলে আশাবাদী ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

চারিদিকে বণ্যা ও করোনার কারণে কৃষকদের এ ঋণ নিতে তেমন আগ্রহী নয় এমনটাই দাবি করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা।

চলতি বছরের ৩০ জুলাই শেষে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সমাহীন ঋণ বিতরণের সুযোগ থাকলেও ২৭ব্যাংক মাত্র ৪৬৬ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। বাকি ২৮ ব্যাংক এক টাকাও ঋণ বিতরণ করেনি। সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটি এ সময়ে ৪০ হাজার ৭৩৯ জন কৃষকে ৩০৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যাংকটি ৭ হাজার ৮০৩ জন কৃষকের বিপরীতে ৫৫ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করেছে। সোনালী ব্যাংক ৭ হাজার ২৬ আবেদনের বিপরীতে ৩৫ কোটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৫ হাজার ৬৯৪ টি আবেদনের বিপরীতে ২৫ কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার টাকা, জনতা ব্যাংক ১ হাজার ৯৮৬ জনকে ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা , বেসিক ব্যাংক ১১ কৃষককে ২৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ২৯ কৃষককে ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ৫৪ জনকে ৫৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৩ কৃষককে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, ইসলামী ব্যাংক ১৩ জনকে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৮৬ জনকে ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ২ হাজার ৭৩৬ জনকে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, এনসিসি ব্যাংক ১৮৯ জনকে ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ২ জনকে সাড়ে ৮ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ১১ জনকে ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১ জনকে ৫ লাখ টাকা, স্টান্ডার্ড ব্যাংক ১ জনকে ২ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ৩ জনকে আড়াই লাখ টাকা, উত্তারা ব্যাংক ১১৬ জনকে ৬২ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও এক টাকাও ঋণ বিতরণ করেনি এবি, কমার্স ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্ বাংলা, ব্র্যাক, ঢাকা, এক্সিম, আইএফআইসি, কমিউনিটি, যমুনা, মধুমতি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল, ওয়ান, পূবালী, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, সাউথ বাংলা, সাউথইস্ট, সিটি, প্রিমিয়ার, ইউনিয়ন, ইউসিবি, মেঘনা, মিডল্যান্ড, বিডিবিএল, ব্যাংক আল-ফালাহ্ এবং এইচএসবিসি ব্যাংক।

নির্দেশনার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও কেন ঋণ বিতরণ করেননি জানতে চাইলে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফখরুল আলস ঢাকা টাইমসকে জানান, এই ঋণ বিতরণে তাদের অনাগ্রহ নয়, বরং গোছাতে একটু দেরি হয়ে গেছে। কৃষকের কাছে সরাসরি ঋণ পৌঁছাতে তারা চেষ্ঠা চালাচ্ছেন। খুব দ্রুত ঋণ বিতরণ শুরু করবে তারা। আবার কিছু এলাকায় বন্যার কারণে ঋণ বিতরণে অনেক বিষয় আশয় বিবেচনা করার জন্যও দেরি হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া ঢাকা টাইমসকে জানান, করোনা বির্ধস্ত অর্থনীতি পুরুদ্ধানে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। এ লক্ষ্য লক ডাউনেও আমরা একদিনও অফিস মিস করেনি। আমাদের ১ হাজার ৩৮ টি শাখা খোলা ছিল। দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার ৪ জন সহকর্মী করোনায় মারা গেছে এবং ৩ শতাধিক কর্মকর্তা আক্রান্ত।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের কৃষি, কৃষক ও অর্থনীতি বাঁচাতে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই ভিত্তিতে কাজ করছি।’

(ঢাকাটাইমস/২৭আগস্ট/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :