মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাণ্ডে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৭ | প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২২

ঢাকার দুটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরা নিস্তরঙ্গ রাজনীতির মাঠে ভিন্নধর্মী উত্তাপ ছড়িয়েছেন। এই উত্তাপ অন্য দলের বিরুদ্ধে নয়, বিএনপির মনোনয়ন পেতে নিজ দলের আগ্রহী প্রার্থীদের ক্ষোভ আর সহিংসতায় মধ্য দিয়ে ছড়িয়েছে দলের ভেতর। আর তাতে বিব্রত দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, নির্বাচন কেমন হবে তা ধারণা করতে পারার পরও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এমন আচরণে বিব্রত তারা।

সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে। এখনো তফসিল ঘোষণা না হওয়া এই আসনে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় বাইরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রক্ত ঝরেছে।

এই সহিংসতার পর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা দলের হাইকমান্ডের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন। মনোনয়ন দেওয়া-নেওয়ার আবেদন করছেন হাইকমান্ড বরাবর।

অন্যদিকে উপনির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ঢাকা-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি অভিযোগ তুলেছেন, তারা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

উপনির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এমন কাণ্ডে বিব্রত বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কেমন নির্বাচন হবে তা তো সবাই জানি। তারপরও এই নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়ানো দৃষ্টিকটু, বিব্রতকরও।’

গত শনিবার বিকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে যখন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছিল, তখন বাইরে ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর ও কফিল উদ্দিন আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১০ জনের মতো কর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় জাহাঙ্গীরকে দায়ী করছেন অন্য আগ্রহী প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমশন এই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে বিএনপি।

ওই সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে বেশ সমালোচনা চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি করেছে বিএনপি। এতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির একজন নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করছি। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হলো তা জানার চেষ্টা করছি। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য যা করতে হয় তা-ই করব।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে সংঘর্ষের দিনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় সুষ্ঠু বিচারের কথা বলেছেন।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও এস এম জাহাঙ্গীরের একটা প্রভাব রয়েছে দলে। তাকে কোণঠাসা করতে উপনির্বাচন ঘিরে একাট্টা হয়েছেন তার আসনের অন্য নেতারা। এরই অংশ হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত আট কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে বিএনপির মহাসচিব ও রুহুল কবির রিজভীকে চিঠি দেন।

এতে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ তোলা হয়। লিখিত আবেদনে ঢাকা-১৮ আসন এলাকার ১৪টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ জন প্রার্থী স্বাক্ষর করেন। আবেদনের সঙ্গে তারা এস এম জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কাগজ জমা দেন।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর খোদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। উপনির্বাচনের সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে গুলশানে হামলার জন্য তাকে দায়ী করা হয়। স্বাক্ষরকারীরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এম কফিল আহমেদ, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আক্তার হোসেন, মোস্তফা জামান, মো. বাহাউদ্দিন সাদী ও মো. আব্বাস উদ্দিন এই অভিযোগ করেন।

জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি জানিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মনোনয়ন চূড়ান্ত না করার অনুরোধ করেন তারা।

এই সাত মনোনয়নপ্রত্যাশীর একজন এম কফিল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার কর্মীদের রক্ত ঝরেছে। তাই বিচার চেয়েছি দলের অভিভাবকের কাছে। আমাদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। দেখি কী হয়।’

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যখন একপক্ষের অভিযোগের পাহাড়, তখন বসে নেই তার সমর্থক নেতাকর্মীরা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়ে দলের হাইকমান্ডকে চিঠি দেন ঢাকা-১৮ আসনের সাত থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা। চিঠিতে দক্ষিণখান, উত্তরখান, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর, তুরাগ, উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্বাক্ষর করেন।

চিঠিটি মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে দেওয়া হলেও, জানা গেছে, এর একটি অনুলিপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পাঠানো হবে। জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের বিশ্বাস, এই চিঠি তার মনোনয়ন পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা চূড়ান্ত করতে দলের নীতিনির্ধারকরা বৈঠকে বসবেন। তবে কবে বৈঠক হবে তা এখনো জানা যায়নি।

ঢাকাটাইমস/১৯সেপ্টেম্বর/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :