নাগার্নো-কারাবাখ যুদ্ধ

এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৫৮

বিতর্কিত অঞ্চল নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৬টি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন। গোলাবর্ষণ করা হয়েছে একটি প্রসূতি হাসপাতালে। বুধবার জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় তিনবার যুদ্ধবিরতি হলেও, মানেনি কোন দেশই। মানবিক যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি মিসাইল ছোড়ে দক্ষিণ ককেশাসের দেশ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান।

ইউনিসেফ বলছে, বেসামরিক অঞ্চলে নিয়মিত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে শিশুদের ওপর এর মানসিক প্রভাব পড়ছে। শিশুরা ভীত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মানসপটে এই সংঘাতের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বুধবার আজারবাইজান জানিয়েছে, কারাবাখ সীমান্তের একটি আজেরি গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। তবে আর্মেনিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছে।

বুধবার রাতের দিকে আজারবাইজান সরকারের মুখপাত্র দাবি করেন, আর্মেনিয়া আজারবাইজানের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে লাগাতার মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় নাগরনো-কারাবাখের কাছে একটি অঞ্চলে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে এই যুদ্ধে তাদের এক হাজার ১১৯ জন সেনা নিহত হয়েছে। সেনা সদস্য ছাড়াও উভয় পক্ষের রকেট হামলায় শতাধিক বেসমারিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। মিসাইল হামলায় ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে উভয় দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহর। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন এই যুদ্ধে পাচঁ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের হলেও, অঞ্চলটি শাসন করে আর্মেনীয়রা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ এবং এই বছরের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

ঢাকাটাইমস/২৯ অক্টোবর/এনএইচএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :