তিন ঘনিষ্ঠজনসহ পাপুলের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৮:৪৮

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল ও তার তিন ঘনিষ্ঠজনের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ ইস্যু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পাপুল ছাড়া বাকি তিনজন হলেন- মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার, কাজী মো. জামশেধ কবির (বাকী বিল্লাহ) ও মো. ইসমাইল খোকন।

গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক চারটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ঢাকা টাইমসমকে জানান সংস্থাটির পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

প্রণব জানান, দুদকের পরিচালক মো. আকতার হোসেন আজাদ (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) স্বাক্ষরে এই চারজনের নামে পৃথক পৃথক নোটিশ পাঠানো হয়।

নোঠিশে বলা হয় ‘উল্লিখিত ব্যক্তিদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের নামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দুদকের নির্ধারিত ছকে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হলো।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এমপি ও তার মেয়ে ওয়াইফা ইসলামের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ ইস্যু করে দুদক।

গত ১১ নভেম্বর পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে মামলা করে দুদক।

সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা লন্ডারিং হয়। অথচ মাত্র ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজের আয়ের কোনো উৎস নেই।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলের অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ এবং প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারায় এজাহারে অভিযোগ আনা হয়।

গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সাংসদ পাপুলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর পাপুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কুয়েতের আদালত। এরপর থেকে তিনি কুয়েতের কারাগারে রয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫নভেম্বর/এসআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :