জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিতে ১০০ মিলিয়ন মানুষ

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৫১ | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৪৬

আন্নে-ম্যারি ট্রেভেলিয়ান অভিযোজন ও সহনশীলতার ওপর যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়ন। তিনি ব্রিটিশ কনজার্ভেটিভ পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আন্নে-ম্যারি যুক্তরাজ্যের সাংসদ। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার অনলাইনে প্রকাশিত তার ‘উই মাস্ট ওয়ার্ক টুগেদার ফর অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স টু ক্লাইমেট চেঞ্জ’ লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সদর উদ্দীন লিমন।

করোনাভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে পুরো বিশ্ব। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, কীভাবে আমরা টেকসই (সাসটেইনেবল) উপায়ে এটি করতে পারি। কারণ, আমরা যদি কাল বিশ্ব উষ্ণায়ন (গ্লোবাল ওয়ার্মিং) বন্ধ করে দিই তারপরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনুভব করতে থাকবে।

জরুরি পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্র হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা অঞ্চলে। আর এই কারণেই আমরা আমাদের এজেন্ডায় অভিযোজন ও সহনশীলতাকে উপরের দিকে রাখছি। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬ এর আগে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষদের সাহায্য করার প্রতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। কপ-২৬ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাজ্যে।

গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্লাইমেট অ্যামবিশন সামিট। এই সম্মেলনে আমরা অভিযোজনের উপর আমরা ২০টি নতুন কমিটমেন্টকে (অঙ্গীকার) স্বাগত জানিয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকেও এর মধ্যে প্রশমন ও অভিযোজন নিয়ে উচ্চাভিলাষী কয়েকটি লক্ষ্য রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাজ্যেরও অঙ্গীকার রয়েছে। যুক্তরাজ্য নিজের দেশে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে চায়।

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নে অভিযোজন ও সহনশীলতা বিষয়ে আমার ভূমিকা অনুযায়ী আমি এক্ষেত্রে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। এই পদে কাজ করতে গিয়ে আমি শিখেছি যে, বিশ্বে সরাসরি যারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বা যারা ফ্রন্টলাইনার তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শোনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কপ-২৬ এ তাদের কথাগুলো ভালোভাবে শুনতে হবে যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফ্রন্টলাইনার (সম্মুখ সারির)। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। যেমন গত গ্রীষ্মে দেশটিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মৌসুমী বন্যার স্থায়িত্ব ছিল। বাংলাদেশ জানে যে, জলবায়ু পরিবর্তন আসল হুমকি। এ ব্যাপারে দেশটি সচেতন।

আর এই কারণেই নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ খুবই জরুরি। বাংলাদেশের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত।

গত সপ্তাহে আমি গবেষণা বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশ-নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট কর্তৃক ভার্চুয়ালি এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞদের কাছ থেকে আমি শুনছিলাম যে, কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।

এই সম্মেলনে আমি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট এবং অন্যান্য গ্লোবাল পার্টনারের সঙ্গে যৌথভাবে অ্যাডাপটেশন রিসার্স অ্যালায়েন্স গঠনে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। অভিযোজনের ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান তৈরিতে ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

বাংলাদেশ, মিশর, মালাবি, নেদারল্যান্ডস, সেইন্ট লুসিয়া ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে যুক্তরাজ্য অ্যাডাপটেশন অ্যাকশন কোয়ালিশন তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তৈরি অন্যান্য বৈশ্বিক উদ্যোগের সাথে একসঙ্গে বিশ্বব্যাপী কাজ করবে এই জোট। কপ-২৬ এর আগের এই সময়ে কার্যকরী পরিবর্তন আনয়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। দাতা দেশগুলো ও বিশ্বের বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে। অভিযোজন তহবিল গঠন ও বিতরণে গুরুত্ব দিতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এবং দাতা দেশগুলোকে একসঙ্গে আনতে আগামী মার্চে আমরা একটি ইভেন্টের আয়োজন করব। রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।

(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :