জলপরানি উপন্যাসের প্রচ্ছদ আঁকলেন ভারতের মাহফুজ আলি

আল-আমিন রাজু, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:৩৯ | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:০৪

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১ এর কথা মাথায় রেখে শিখা প্রকাশনি থেকে কিঙ্কর আহসান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন ‘জলপরানি’ নামের একটি উপন্যাস। দীর্ঘ একবছর ধরে লেখা এই উপন্যাসটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ভারতের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী মাহফুজ আলি। মালি নামে পরিচিত এই শিল্পীর ফেসবুক পেইজ থেকে উপন্যাসের মোশন পোস্টারটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

এই নিয়ে শিখা প্রকাশনির প্রকাশক কাজী নাফিস বলেন, ‘দারুণ যতœ নিয়ে আমরা ‘জলপরানি’ উপন্যাসটি প্রকাশ করতে যাচ্ছি। পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই উপন্যাসটি সঠিক সময়ে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। খ্যাতনামা শিল্পী মাহফুজ আলি আমাদের এই কাজে যুক্ত হওয়ায় আমরা আনন্দিত বোধ করছি।’

উপন্যাসটির প্রি অর্ডার নেয়া শুরু করেছে দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন বুকশপ রকমারি ডটকম। টানা ১০দিন শুধুমাত্র রকমারি ডটকম থেকে বইটির প্রি অর্ডার করা যাবে। পরবর্তীতে বুক এক্সপ্রেস, বইবাজার, অথবা ডটকম, কানামাছি, বুকশেলফ, বুকমার্ক, আলোড়ন, বইকথা সহ সকল অনলাইন বুকশপে বইটির প্রি অর্ডার নেয়া হবে।

জলপরানি উপন্যাসের প্রুফ দেখার কাজ করছেন ‘বানান আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা।

উপন্যাসের আয়োজন নিয়ে লেখক বলেন, ‘শিল্পী মাহফুজ আলিকে কৃতজ্ঞতা জানাই বইটির প্রচ্ছদ করার জন্য। উপন্যাসটির মোশন পোস্টার করতে এগিয়ে এসেছেন সঞ্জয় দেব এবং টাইপোগ্রাফির কাজ করেছেন রাসেল রানা। মোশন পোস্টারে কণ্ঠ দিয়েছেন ভুত এফএম খ্যাত জনপ্রিয় রেডিও জকি (আরজে) রাসেল। আমি তাদের সকলের কাছে ঋণী হয়ে থাকলাম। যে কষ্ট, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে উপন্যাসটি লিখবার জন্য তা স্বার্থক হবে যদি পাঠকরা পরম মমতায় উপন্যাসটি আগলে রাখেন তাহলেই।’

সমসাময়িক সময়ের জনপ্রিয় এই লেখকের প্রায় প্রতিটি বই পাঠকদের মনে সাড়া জাগিয়েছে লেখনি ও গল্পের ভিন্নতার কারণে। মেঘডুবি, বিবিয়ানা, রঙিলা কিতাব, রাজতন্ত্র, মধ্যবিত্ত, বাঘবিধবা, মকবরা, আঙ্গারধানি বইগুলো ঠাঁই পেয়েছে পাঠকদের ঘরে। বই ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তার ‘পৃথিবী বইয়ের হোক’ স্লোগানটি মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে দেশের বইপ্রেমী মানুষ এবং সংগঠনগুলো।

উপন্যাসের ফ্ল্যাপ: জাহান গিটার রেখে পাশে থাকা ড্রয়ার থেকে সুঁই-সিরিঞ্জ বের করে। তারপর খুব যতেœ, আগলে রাখা প্যাথেডিন এর অ্যাম্পুল ভেঙে তা থেকে পুরনো সিরিঞ্জে তরলটুকুন নেয়। বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে শিরায় ইনজেকশন পুশ করা হয়। শান্তি। এবার কমবে অস্থিরতা। প্যাথেডিন মনের ব্যাথা কমাবে! জাহানের রক্তে প্যাথেডিন এর তরল মিশে যেতেই ঘুম ঘুম লাগে তার। শরীর ঘামে। ভাত খাবার পর হাতে তরকারি লেগে থাকলে শুকিয়ে সেটা যেমন কড়কড়ে হয়ে যায় তেমনি আস্ত শরীরটায় এমন কড়কড়ে ভাব টের পাওয়া যায়। বার্বিচুরেটস আর প্যাথেডিন সবচেয়ে বেশি প্রিয় জাহানের। দুশ্চিন্তা চলে গিয়ে ঘুম আসে এতে। একটা আজব মন ভালো করা ক্লান্তির পোকা শরীরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। ভালো লাগে। জাহান চোখ বন্ধ করে। মায়ের কথা ভুলতে চাইলেও মায়ের মুখটা সবার আগে সামনে চলে আসে। কী মায়া! এই মুখ ভোলা যায় না। নিজের সাথে লড়াই করে জাহান। চোখ বন্ধ করে সব ভুলে যেতে চায়। অথচ চোখের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে জালিয়াপাড়া গ্রামটা। অই যে দেখা যায় স্কুলের সামনের ফুটবল মাঠ। ‘পাস দে, পাস দে...’ বলে চিৎকার করে বন্ধু কৌশিক। পাগলা বৃষ্টির ঝাপটা উপেক্ষা করে গোলপোস্টের দিকে দৌড়াতে থাকে জাহান। গোলকিপারের কাছাকাছি যেতেই ল্যাং মারে কেউ একজন। প্রচ- ব্যাথা নিয়ে মাটিতে পড়ে যায় সে। চোখে ঢুকে যায় কাঁদা। সব অন্ধকার। ‘আমার চোখ, চোখ...।’ বলে ব্যাথায় চিৎকার করে ওঠে জাহান। আশেপাশে যেনো কেউ নেই আর। পৃথিবী ডুবে গেছে আঁধার, কালোতে। ঠিক তখনই আবার দৃশ্যপট বদলে যায়। জাহান দেখতে পায় ইকড়ি মিকড়ি রোদের ছাড়ায় তাল গাছ থেকে মাটিতে নেমে আসা তাল নিয়ে বন্ধুদের সাথে ঝগড়ার দৃশ্য। শেষ বিকালে বাউল শরাফত গেয়ে ওঠে, ‘ও রে, দেহের মরন আছে/মনের মরন নাই/আমি অই খাঁটি সোনা মনের দেখা কই পাই/ কই পাই?’ আর গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে হালিম কারিগর ফুলের মতোন সুন্দর পেঁয়াজু ভাজতে থাকে সন্ধ্যা অবধি। মাগরিবের আযান দিলেই বাড়ি ফেরার তাড়া আছে। তার আগে দীঘিতে ডুব দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে শরীর। দীঘির নামটি মনে আছে? জলপরানি দীঘি!

ঢাকাটাইমস/১৬ ফেব্রুয়ারি/এআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :