ব্যবসায়ীকে মানসিক রোগী বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, অতঃপর...

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২০:২৮

পাবনার এক ব্যবসায়ীকে মানসিক রোগী বানিয়ে তার প্রথম পক্ষের সন্তানেরা জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করে সহায়-সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করে। অবশেষে পুলিশে সদরদপ্তরের হস্তক্ষেপে সেই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়েছে ঢাকার একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে।

শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবনা জেলা থেকে এক নারী বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া উইং পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুক পেইজ’ এর ইনবক্সে জানান, তার বাবাকে আগের ঘরের ছেলে ও বড় সন্তান কিছু দুষ্কৃতিকারীর সহযোগিতায় ১৫ দিন আগে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তার বাবা পাবনার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার প্রথম স্ত্রীর সাথে বহু বছর আগেই ডিভোর্স হয়েছে। প্রথম সন্তানকে তিনি শুরু থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আর্থিক সাপোর্ট দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু, সেই ছেলে জোরপূর্বক বাবার ব্যবসা দখলের পাঁয়তারা করেন। কোনো এক সুযোগে কিছু দুষ্কৃতিকারীর সহযোগিতায় প্রথম ঘরের ছেলে তার বাবাকে পথ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তারপর, তাকে ঢাকার কোনো একটি বেসরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগী হিসেবে ভর্তি করিয়ে রাখে। এক প্রকার ফিল্মি স্টাইলে ভদ্রলোকের ব্যবসা দখল করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিকে ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। এক পর্যায়ে তারা বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও বার্তা পাঠিয়ে সহযোগিতা চায়। বার্তাটি দেখার পরপরই মিডিয়া উইং ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নেয়। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমকে নিবিড়ভাবে বিষয়টি তদারকির জন্য পরামর্শ দেয়। মাসুদ আলম জেলা পুলিশ সুপারের সাথে পরামর্শ করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তরিকুল ইসলামের সাথেও যোগাযোগ রাখছিল মিডিয়া উইং।

অবশেষে পাবনা জেলা পুলিশের সার্বিক তৎপরতায় স্বল্পতম সময়ে ওই ব্যবসায়ীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

আজ শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাবনা জেলা পুলিশের একটি টিম ঢাকায় আসে। পরে তারা মোহাম্মদপুরের বসিলায় অবস্থিত একটি অখ্যাত মানসিক রোগ হাসপাতাল ও রিহ্যাব সেন্টার থেকে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার স্ত্রী ও কন্যা সাথে ছিলেন। মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং সার্বক্ষণিকভাবে ভিকটিমের পরিবার ও পাবনা জেলা পুলিশের সাথে এ বিষয়টি সমন্বয় করছিল। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :