দুঃসহ কাল ঘুচে অপেক্ষার শেষ কবে?

তন্ময় হাসান সিয়াম
  প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০২১, ০৯:৪৫| আপডেট : ৩০ জুন ২০২১, ১১:১৬
অ- অ+

সময়টা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯। পৃথিবীবাসী জানতে পারে নতুন এক করোনাভাইরাসের আগমন ঘটেছে, পরে যার পোশাকি নাম হয় কোভিড-১৯। চীনের ওহান নামের প্রদেশ সিলগালা হয়ে যায়। চারদিকে যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধতার আঁধার নেমে আসে। কয়েক মাসের মধ্যেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। মৃত্যুর মিছিল পড়ে চারদিকে। লাখো মানুষের মৃত্যু ছুঁয়ে যায় দেখতে দেখতে। এই মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষ মৃত্যুর পাশাপাশি লড়ছে অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে। বদলে যেতে থাকে মানুষের সামাজিক আচরণ, জীবনযাপন।

যেখানে মানুষ ছিল ব্যস্ততম চলমান প্রাণী, সেখানে পুরো পৃথিবীকে কাবু করে ফেলে অদৃশ্য এক ভাইরাস। বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণু নতুন নয়। নানা কারণে মানুষের মৃত্যুও হয়ে থাকে। তবে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি এসে পুরো বিশ্বকে এভাবে একা রাজত্ব করবে তা মানুষের কখনো কল্পনাতেও ছিল না। শিশু, তরুণ, ছোট-বড় কিংবা বয়স্ক কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না; যাকে পাচ্ছে তার উপরই চেপে বসছে ভাইরাসটি।

করোনাভাইরাস বিশ্ববাসীর কাছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে বটে। একসময় সবার ভাবনা ছিল যে অন্যান্য ভাইরাসের মতোই এটি শুধু স্বাস্থগত মোকাবেলার সঙ্গে লড়াই করতে হবে, কিন্তু এটি তীব্র ধারণ করার ফলে বিশ্ববাসীর কাছে কেবল স্বাস্থগত ক্ষতিকর নয় বরং খুদা-মন্দাসহ নানা দুর্ভিক্ষের লক্ষণও প্রকাশ পেয়েছে।

এই মহামারিতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে করোনাভাইরাসের চেয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো লকডাউন। কেননা বাংলাদেশে রয়েছে তিন শ্রেণীর মানুষের বসবাস- উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয় থেকে ব্যয় করে বেশ কিছুদিন চালিয়ে নিতে পারে, কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা দিন আনে দিন খায়। লকডাউন কথাটা শোনা মাত্রই মাথায় হাত- "কীভাবে চলবো; কি খাবো; কি পড়বো" ।

শুনেছি যারা দিন আনে দিন খায় তথা নিম্নবিত্ত পরিবারদের বাংলাদেশ সরকার আর্থিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করবে। তবে কয়জনই বা এই আর্থিক সহায়তাটি পেয়েছে তা জানা নেই। অনেক পরিবার রয়েছে যারা এখনো কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। আর এই লকডাউন থাকা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার। তারা সবার কাছে হাত পেতে চাইতে পারে না এমনকি কখনো মুখ ফুটে বলতেও পারে না। আবার তাদের মধ্যে অনেকের রয়েছে বিভিন্ন ধারদেনা। সবকিছু মিলিয়ে তারা বিভিন্ন দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে বিশ্বকে আগের মতো সচল করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভাইরাসটি যখন পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে এবং এটি ভয়ংকর ভাবে রূপ নিতে শুরু করেছে তখন থেকেই ধীরে ধীরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে শুরু করে। কেননা বেঁচে থাকার জন্য জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তবে বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে।

করোনার প্রভাবে বেকারত্বের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সারা দেশে সাময়িকভাবে লকডাউন করা হচ্ছে। এতে করে অনেকে চাকুরিচ্যুত হচ্ছে, অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে, আবার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের দিকে রূপ নিচ্ছে।

করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মৃত মানুষকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ হয়নি আত্মীয়স্বজনদের। এমনকি প্রিয় মানুষকে কবর দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি অনেকে। হয়তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়তো কোনো স্বেচ্ছাসেবীর হাত ধরেই যেতে হচ্ছে শেষ ঠিকানায়!

সৃষ্টিকর্তা হয়তো কোনো পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এই ভাইরাসকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। বিশ্ববাসী অধীর অপেক্ষায়- এই দুঃসহ কাল ঘুচে কবে হবে পৃথিবী করোনামুক্ত। আবার কবে পৃথিবী ফিরে পাবে তার আগের চিরচেনা রূপ! কোনো একদিন হয়তো করোনা বিদায় নিবে, তবে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট-বেদনা প্রতিটা মানুষের মনকে নাড়া দেবে প্রতিটা ক্ষণ।

লেখক: শিক্ষার্থী ও ভ্রমণবিষয়ক লেখক

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী সৌদি আরব
পদোন্নতি পেয়ে সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা
নৌবহরে যুক্ত হয়েছে জাপানী ৫টি পেট্রোল বোট
ডিবি মিরপুর বিভাগের ডিসি হলেন রাঁকিব খান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা