বিরোধ মেটাতে শাজাহান খানের সভায় সাড়া দিলেন না তারা

মাদারীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৪৭

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠনিক ‘বিরোধ মেটাতে’কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় আয়োজন করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ শাজাহান খান। সভায় কার্যনির্বাহী সংসদের মাদারীপুরের ছয় নেতাকে চিঠি দিয়ে সভায় থাকার জন্য আহ্বান জানালেও তারা কেউ সভায় যোগ দেননি। তবে শাজাহান খানের দাবি, ছয় নেতার মধ্যে একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় এই সভা আবার অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৯ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা হয়। ওই সভায় মাদারীপুরের আওয়ামী লীগের সংগঠনিক বিরোধসহ নানা বিষয় উপস্থাপন করা হয়। পরে বিরোধ মেটাতে মাদারীপুর আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি কার্যনির্বাহী সংসদের মাদারীপুরের সাত নেতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন। যার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেন মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খানকে।

সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর শাজাহান খান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কার্যানির্বাহী সংসদের সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজি ও আনোয়ার হোসেনকে চিঠি দিয়ে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার অনুরোধ জানান। কিন্তু শাজাহান খানের ডাকা সভায় মাদারীপুরের কেন্দ্রীয় এই ছয় নেতার কেউ যোগ দেননি।

শাজাহান খানের ডাকা সভায় যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা শাজাহান খানকে আওয়ামী লীগ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু শাজাহান খান নিয়ম মানেন না। তাই তার ডাকে কেউ সারা দেননি। সভায়ও যোগদান করেননি। তিনি (শাজাহান খান) নিজের মতো করে নিজেকে সমন্বয়ক বানিয়ে মিটিং ডাকলেন। আবার তিনি জেলায় তার ভাই ও আওয়ামীবিরোধী লোকজন নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে যাচ্ছেন। শাজাহান খান সেখানে আবার ভার্চুয়াল বক্তব্যও দিচ্ছেন। এটা কেমন আচরণ? তার আচরণ দ্বিমুখী। তার প্রতি দলের কোন ব্যক্তির আস্থা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও শাজাহান খান এখনো আওয়ামী লীগ হতে পারেননি। আর পারবেনও না। তার কথায় আর কাজে মিল নেই। তার সঙ্গে কথা বললে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। তাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আমরা ছয়জন কেউ তার আহ্বানে সাড়া দেইনি। শাজাহান খান সবাইকে নিয়ে এক হয়ে কাজ করবেন বললেও তিনি এখনো উল্টো পথে হাঁটছেন। তার লোকজন দিয়ে অবৈধভাবে মাদারীপুর ও রাজৈরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পাল্টা কমিটি করাচ্ছেন। তিনি আসলে কি চান, তা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না।’

মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খান মুঠোফোনে বলেন, ‘সভাটি মঙ্গলবার বিকালে হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। কারণ মাদারীপুরের আমরা সাতজনের মধ্যে দুজনই ছিলেন না। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি দেশে ফিরলেই আবার এই সভা ডাকা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই দলের নিয়ম মেনে রাজনীতি করি। এখনো তাই করছি। আমার নির্বাচনী এলাকায় দলকে সংগঠিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন করা হচ্ছে। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে দিচ্ছেন। এরপরেও জেলা আওয়ামী লীগ ও কিছু নেতাকর্মী আমার বিরোধিতা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এটাই তাদের কাজ। এসব নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘শাজাহান খান দলের বাইরে তার নিজস্ব কিছু লোক নিয়ে আবার সেই আগের মতো তৃণমূলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি দলের সাংগঠনিক সমস্যা সমাধান নয়, বরং সমস্যা সৃষ্টি করাই তার কাজ। দল ঐক্যবদ্ধ হোক- তা তিনি চান না। জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে কিভাবে সদর ও রাজৈর উপজেলার ইউনিয়নগুলোয় সম্মেলন করেন? তিনি আবারও গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করে চলেছেন। যা দলের বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ।’

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :