বৈধ অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আইওএমের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদার এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মশক্তিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো এবং বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ ড্যানিয়েলসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইওএমের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।
নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি বা জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নত করা জরুরি। এজন্য পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে এবং মেধাভিত্তিক গতিশীলতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিবাসী কর্মী, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো এবং সহায়তা সেবা জোরদার করার আহ্বান জানান।
সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য তিনি আইওএমকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, নিরাপদে ফেরা, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ড্যানিয়েলস। এছাড়া, বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।
নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে বাংলাদেশ-আইওএম সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









































