সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২৮

সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র এবং পরীক্ষার প্রবেশপত্র জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন-মো. আব্দুল মান্নান এবং কাজী সোলাইমান হোসেন জনি।

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বীণা রানী দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক ভুক্তভোগীর দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ধানমন্ডি এলাকা থেকে মো. আব্দুল মান্নান এবং কাজী সোলাইমান হোসেন জনিকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, বেকার যুবকদের অভিভাবকদের অসহায়ত্ব ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে থাকে চক্রটি। এদের মধ্যে আব্দুল মান্নান চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবকদের অভিভাবকদের টাকার বিনিময়ে সরকারি বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ওই প্রলোভনে রাজি হলে তিনি চাকরি প্রত্যাশীর জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। তারপর চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী অভিভাবকদের বিভিন্ন সরকারি পদে চাকরির প্রস্তাব দেন। চাকারিপ্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতা ও পদ অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। এভাবে একটি সরকারি পদে চাকরি দেওয়ার জন্য তারা প্রার্থী প্রতি পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। অভিভাবকদের সঙ্গে প্রাথমিক বোঝাপড়ার পর চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে অর্ধেক টাকা নেওয়া হয়। বাকি টাকা নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দিতে হবে মর্মে চুক্তি হয়। এরপর তিনি প্রার্থীকে অপর আটক কাজী সোলাইমান হোসেন জনির কাছে নিয়ে যান। তিনি একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর প্রার্থীর কাছে ডাকযোগে ভুয়া নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। তারপর প্রার্থীকে নির্ধারিত তারিখে টাকাসহ চাকরিতে যোগদান করার জন্য বলা হয়। প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারকচক্র কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে প্রার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

র‌্যাব জানায়, এভাবে ওই চক্র অভিযোগকারী এক ভুক্তভোগীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী প্রতারকের দেয়া নিয়োগপত্র পরিচিতজনদের দেখালে বুঝতে পারেন নিয়োগপত্রটি ভুয়া। এরপর তিনি র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী ভুক্তভোগী ছাড়াও প্রতারক চক্র বিভিন্ন সরকারি পদে চাকরি প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আটক মো. আবদুল মান্নানের বাড়ি নরসিংদী জেলার পলাশ থানার পলাশ দাড়িহাওলা গ্রামে আর কাজী সোলাইমান হোসেন জনির বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার গজয়পুর গ্রামে।

ঢাকাটাইমস/২০ অক্টোবর/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :