১৫ বছর ধরে লাপাত্তা ছিলেন হারিছ চৌধুরী

তিন মাস আগে লন্ডনে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে বলে চাচাতো ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি আশিক চৌধুরী ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৪০ | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৩

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব এক সময়ের দাপুটে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন বলে খবর এসেছে। তিন মাস আগে লন্ডনে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে বলে তার চাচাতো ভাই ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি আশিক চৌধুরী ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় হারিছ চৌধুরী বসতেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তবে আলোচিত হাওয়া ভবন ছিলো তার ক্ষমতার মূল কেন্দ্র। বিএনপির ওই আমলে দাপট নিয়ে চলা হারিছ চৌধুরী ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যান।

সেনা সমর্থিত ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে হাওয়া ভবনের এই কুশীলবকেও গ্রেপ্তারে চালানো হয় অভিযান। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে লাপাত্তা হন হারিছ চৌধুরী। সেই যে লাপাত্তা হয়ে যান এরপর আর তাকে দেশে দেখা যায়নি। প্রায় ১৫ বছর পর হঠাৎ খবর এলো তিনি তিন মাস আগে লন্ডনে মারা গেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এক সময়ের বিএনপির দাপুটে এই নেতা কোথায় ছিলেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও মৃত্যুর পর তার লন্ডনে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যেই থাকতেন। তার ছেলে জনি চৌধুরী পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার। আর মেয়ে মুন্নু চৌধুরী ব্যারিস্টার।

জানা গেছে, আগে থেকেই হারিছ চৌধুরী ব্ল্যাড ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একবার রক্ত পরিবর্তন করে আসেন। কিছুদিন আগে করোনাতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। আক্রান্ত হওয়ার আগে হারিছ চৌধুরী করোনার দুই ডোজ ভ্যাকসিনও নিয়েছিলেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তার রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং পুরো ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে পড়ে। করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও তিনি ফুসফুস জটিলতায় ভুগছিলেন। কবে থেকে খোঁজ নেই?

বিএনপির আমলের প্রভাবশালী এই নেতা ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। একযুগেরও বেশি সময় পার হলেও দাপুটে হারিছ চৌধুরী কোথায়, জীবিত না মৃত তাও এতদিন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। নিজ জেলা সিলেট বিএনপির রাজনীতিতেও আলোচনায় ছিলেন না তিনি।

অনেক নেতার গুম-নিখোঁজ ইস্যুতে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি বা বক্তৃতা বিবৃতি থাকলেও হারিছ চৌধুরীর কথা কাউকে মুখে নিতেও দেখা যায়নি কখনো। যদিও শুরু থেকেই সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখে এক ধরনের আলোচনা ছিলো দেশ ছাড়ার পর ভারতের পাঞ্জাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও পরে লন্ডনে যান হারিছ চৌধুরী। এর বাইরে ইরানে যাওয়া-আসা করার খবরও শোনা গেছে।

হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। তার নানাবাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে। নানাবাড়িতে যাওয়া-আসার সুবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে আগে থেকেই জানাশোনা ছিল তার। তাই দেশ ছাড়ার পর শুরুতে পাঞ্জাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে থিতু হয়েছিলেন এমনটা শোনা যায়। একসময় গণমাধ্যমে তার মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেটা কবে কোথাকার ছবি তা তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিরতে চেয়েছিলেন দেশে

২০০৭ সালে দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন সময়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছেন হারিছ চৌধুরী। ২০১০ সালে একবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেও পিছু হটেন। পরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানোর আগেও একবার দেশে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে মামলায় জড়ানোয় আর দেশমুখী হননি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসনে হারিছ চৌধুরীকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে পোস্টারিং হয়েছিল। তখন তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি সে নির্বাচন বর্জন করায় সেবারও ভেস্তে যায় তার দেশে আসা।

সিলেটে হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনরা জানান, বিভিন্ন সময়ে দেশে আসার পরিকল্পনা করলেও দলের হাইকমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়া, একের পর এক মামলা, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও পরিবারের সদস্যদের আপত্তিতে ফিরতে পারেননি তিনি।

ঝুলছিল সাজার খড়গ

দেশজুড়ে আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয় হারিছ চৌধুরীর। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারিছ চৌধুরীর সাত বছরের জেল ও দশ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সাজা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১১ সালের আগস্টে তেজগাঁও থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অজ্ঞাত সূত্র থেকে টাকা সংগ্রহের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে হারিছ চৌধুরীসহ আরও তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার এক মামলায় হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়রসহ ২৮ জনের জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

ঢাকাটাইমস/১২ জানুয়ারি/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ কর্মকর্তার সঙ্গে ৫০ মিনিট বৈঠক বিএনপির

‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে ওবায়দুল কাদের বললেন ‘নেতাকর্মী প্রস্তুত’

বিএনপি জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল: হানিফ

সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের মিছিলে জনস্রোত

বঙ্গবন্ধু এমন একটি আদর্শ যাকে কোনোভাবেই হত‍্যা করা যাবে না: খালিদ

সরকার চালাচ্ছে স্বার্থান্বেষী অর্থপিপাসু বণিক সমাজ: ফখরুল

দেশে ‘শান্তি ফেরাতে’ খালেদা জিয়ার জামিন চান ডা. জাফরুল্লাহ

রাজধানীতে আ.লীগ নেতাকে পেটানোর অভিযোগ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

খুনি জিয়ার মরণোত্তর বিচার এখন সময়ের দাবি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রশাসনেও আ.লীগের দুর্বৃত্তায়ন: নুর

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :