সোয়া দুইশ’ মেট্রিক টন চাল ঘাটতির অভিযোগ, খাদ্যগুদামে সিলগালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ২০:২৪

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রায় সোয়া দুইশ’ মেট্রিক টন চাল ঘাটতির অভিযোগে গুদামটি সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর থেকেই উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন লাপাত্তা রয়েছেন।

গুদামের চাল আত্মসাতের ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) সানোয়ার হোসেন প্রায় সোয়া দুইশ’ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত করার পর গত চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডের চাল ও ডিলারদের ১৫ টাকা কার্ডের চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এতে উপজেলার হতদরিদ্ররা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। বুধবার বিকালে ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক) তারিকুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন ও চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম উপস্থিত থেকে গুদামের নথিপত্র যাচাই করে গুদামটি সিলগালা করে দেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রশিক্ষণে দেশের বাইরে থাকায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামান। তিনি বলেন, বিষয়টি আসলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার মতো ঘটনা। গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আমরা অনেক গড়মিল পাই। এক পর্যায়ে বড় অংকের চাল আত্মসাতের ঘটনা বেরিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, গুদামের চাল আত্মসাতের ঘটনায় মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দুজন সদস্য হলেন- চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম ও ঢাকা বিভাগীয় অফিসের একজন কর্মকর্তা।

তারিকুজ্জামান বলেন, আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা যাবে না।

চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম বলেন, আপাতত গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর থেকে উপজেলা ওসিএলএসডি সানোয়ার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন। গত কয়েক দিন যাবত কয়েক দফায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং গুদামে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে গত কয়েক দিন যাবত সানোয়ার হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

বৃহস্পতিবার বিকালে একবার ফোনটি রিসিভ করলে ভাই আমি অসুস্থ, পরে কথা বলব বলে লাইনটি কেটে দেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান, ওই ওসিএলএসডি গত চার মাস ধরে আমার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেনি। একইভাবে উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় দুইশ’ মেট্রিক টন ভিজিডি কার্ডের চাল সে আত্মসাত করেছে। আমি গত বুধবার রাতে ওসিএলএসডির নামে থানায় অভিযোগ করেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, উপজেলার সাতজন ডিলারের মধ্যে নির্দিষ্ট এক ডিলারের সাথে আঁতাত করে ওসিএলএসডি প্রায় কোটি টাকার চাল আত্মসাত করে লুকিয়ে রয়েছেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা কবির ত্রপা জানান, খাদ্যগুদাম সিলগালার ব্যাপারে এখনো আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।

(ঢাকাটাইমস/২৪নভেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :