রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ: বাধা পেরিয়ে নেতাকর্মীদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী থেকে
| আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫৩ | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৫০

রাজশাহী জেলা মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ আজ। এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরে বিএনপির কর্মসূচি শেষ হচ্ছে। বিভাগীয় পর্যায়ের শেষ কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। পদে পদে বাধা, পুলিশি তল্লাশি উপেক্ষা করে দুই দিন আগে থেকে রাজশাহীতে নামে নেতাকার্মীদের ঢল।

সমাবেশের আগের দিনই যেন মিছিল আর স্লোগানের নগরীতে পরিণত হয় নগরী। তবে বিএনপির অন্য বিভাগের সমাবেশের মতো রাজশাহীর সমাবেশের আগে থেকেই মাঠে প্রবেশ করতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। পাশেই ঈদগাহ মাঠে সামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা। ফলে মাঠের অদূরেই যেন আরেক সমাবেশ।

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশস্থল আজ শনিবার ভোর থেকে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে বলে জানান বিএনপি নেতারা। তবে মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয় গতকাল বিকালেই।

জানা গেছে, রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া, বেলপুকুর, কাটাখালি ও তালাইমারি, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মোহনপুর, নওহাটা ও নওদাপাড়া এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ী ও কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ঢাকা টাইমসকে বলেন, পুলিশি বাধা এবং হয়রানি উপেক্ষা করে এরই মধ্যে লাখো নেতাকর্মী রাজশাহী শহরে প্রবেশ করেছে। অনেকেই রাজশাহী ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের পাশে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বাধা দিয়ে হয়রানি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাগম ঠেকানো যাবে না।

তিনি বলেন, ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীদের থাকার জন্য তাঁবু টানানোর ব্যবস্থা করা হলেও পুলিশ প্রথম দিকে তাতেও বাধা দেয়। ফলে অনেক নেতাকর্মীকে রাতে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের পুলিশ মাঠে ঢুকতে দেয়নি। শুধু মঞ্চ তৈরির জন্য কিছু লোককে প্রবেশ করতে দিয়েছে। তাই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ঈদগাহ মাঠে অবস্থান নেয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, নগরীর প্রবেশদারগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। তবে হয়রানি ও অনেককে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

দুই দিনে গ্রেপ্তার ৬৩ জন

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে আটক করা হয় ৬৩ জনকে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশি অভিযানে আটক করা হয় ৫৩ জনকে। এছাড়া গতকাল ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. রফিকুল আলম।

মহানগরীর থানা ও ডিবি পুলিশ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা-১ জন, রাজপাড়া থানা-১ জন, মতিহার থানা-১ জন, কাটাখালী থানা-১ জন, শাহমখদুম থানা-১ জন, পবা থানা-১ জন, কর্ণহার থানা-১ জন, দামকুড়া থানা-৩ জন ও ডিবি পুলিশ-২ জনকে আটক করে।

যার মধ্যে ৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৬ জনকে মাদকদ্রব্যসহ ও অন্যান্য অপরাধে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদক মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের হেফাজত হতে মোট ৫ গ্রাম হেরোইন, ৪৫ বোতল ফেন্সিডিল, ৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়।

এছাড়াও নগরীর ছাত্রাবাস এবং আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালায় পুলিশ এমনটা জানা গেছে।

ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী

জেলার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ) এ গণসমাবেশ যোগ দিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়। গত বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা পায়ে হেঁটে রাজশাহীতে আসতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় স্থানীয় ও আট জেলার নেতাদের ব্যানার ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। খন্ড খন্ড মিছিলে মুখর রাজশাহী। কয়েকদিন থেকে চলছে মাইকিং। পথে পথে পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে শত শত নেতাকর্মী আসছে গণসমাবেশে। আগত নেতাকর্মীদের ঠাঁই হচ্ছে মাদ্রাসা মাঠের পাশেই ঈদগাহ মাঠে। শীতে কেউ তাঁবুর ভিতর কেউ খোলা আকাশের নীচে রাত যাপন করছেন। তবে, গণসমাবেশ ঘিরে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।