আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ছাড় দিচ্ছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৪৭| আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৩
অ- অ+

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পিছু ছাড়ছে না দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। আজও ঢাকায় রয়েছে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ও যুবলীগের প্রতিবাদ সমাবেশ। একই দিনে দুই দলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তাপ বিরাজ করছে। শঙ্কা তৈরি হয়েছে সংঘাতেরও।

এমন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে দুই দলকে সরে আসার আহ্বান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানালেও বিএনপি বলছে, তাদের কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীদের ভয় দেখাতেই আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি কর্মসূচির নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনগণের জানমালের যেন ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্য শান্তি সমাবেশ নিয়ে রাজপথে আছেন তারা। মোট কথা দুই দল কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের শঙ্কা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতার। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন জরুরি।

এদিকে শনিবার বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। কিন্তু ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ফ্যামিলি ডে থাকায় এ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আজ পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। যদিও শনিবারও কর্মসূচি রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিকদের অনুরোধে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পদযাত্রা কর্মসূচি শনিবারের পরিবর্তে শুক্রবার পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

ঢাকার পত্রিকা, অনলাইন ও টিভি মিডিয়ার রিপোর্টাররা যেন পরিবারের সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ফ্যামিলি ডে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই পদযাত্রা কর্মসূচি আজ পালন করার কথা জানিয়েছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিশ্চিত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, ঢাকায় কর্মরত রিপোর্টারদের অনুরোধ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উঠলে তাতে সাড়া দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা তাদের ১০ দফা দাবি আদায়ে যথাক্রমে ২৮, ৩০, ৩১ জানুয়ারি এবং ১, ১১ ফেব্রুয়ারি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে।

অন্যদিকে আজ বিকাল ৩টায় মোহাম্মদপুরের হাজী মকবুল হোসেন কলেজ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ। প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর আজ সকাল থেকে সকল ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

এছাড়া গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর ও ১১ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ‘পদযাত্রা’র নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, সহিংস রাজনীতি, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, জনগণ ও পুলিশের ওপর হামলা, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসহ গাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ আজ বিকাল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। একই দিন বিকাল ৪টায় ফার্মগেইট যুবলীগ চত্বরে ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের প্রতিবাদ সমাবেশ। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর ব্যতীত দেশের সকল বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সভা। ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি উপজেলা/থানা ও পৌরসভায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি বুধবার ঢাকা মহানগরে জাতীয় সংসদের আসনভিত্তিক এবং দেশের সকল মহানগরের প্রতিটি থানায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা হচ্ছে নানা মহলে। এ বিষয়ে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। আমাদের কর্মসূচি সবসময় ছিল এবং থাকবে। আমরা কাউকে রাজপথ ইজারা দেই নাই। বিএনপির উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজপথ দখল করে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মানুষ পুড়িয়ে, অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।’

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক’দিন আগে ইউনিয়নে ইউনিয়নে পদযাত্রা করে আমাদের দলের শান্তি সমাবেশের ওপর হামলা করে গাড়ি-ঘোড়া পুড়িয়েছে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসীদের সেখানে দেখা গেছে, পিস্তল উঁচিয়ে তাদের মিছিলে দেখা গেছে- এগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে উঠে আসা দল। আমরা রাজপথে আছি এবং থাকব এবং রাজপথে কাউকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।’

একই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুও। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে। কিন্তু সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বিপরীতে কর্মসূচি দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে চায়। সরকারকে বুঝতে হবে আজকের এই চলমান আন্দোলন শুধু বিএনপির একার আন্দোলন নয়, দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের আন্দোলন। জনগণ আপনাদের সীমাহীন অত্যাচারে বারুদে পরিণত হয়েছে। আর এ বারুদে হাত দিলে আগুনে হাত পুড়ে যাবে।

তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) সাধারণ সম্পাদক বদিউল মজুমদার বলছেন, একই দিন যখন বিপরীতমুখী দুটি রাজনৈতিক দল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তখন স্বাভাবিকভাবে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেটা অনেক সময় সংঘাতের দিকে গড়ায়। তারপর আমরা দেশে কোনো সংঘাত চাই না। তার জন্য দরকার রাজনৈতিক সমঝোতা।

আবু আলম মো. শহীদ খান এ বিষয়ে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একই দিনে কর্মসূচি পালন সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এ জন্য তাদের উচিত হবে, তারা যখন কর্মসূচি দেবেন, একে অপরের কর্মসূচির প্রতি খেয়াল রাখা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়া রাজনৈতিক সংঘাতের পথ সৃষ্টি করে এবং এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিরও পরিপন্থী। এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি যখন একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়, তখন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা এটাকে সেভাবেই নেন যে- এটা এমন কর্মসূচি যেখানে আমাদের শোডাউন করতে হবে। এই শোডাউন করতে গিয়ে সংঘাত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা নাগরিক সমাজ, যারা শান্তি চাই, যারা দেশের গণতন্ত্র বিকশিত হোক এটা চাই, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই, যে কারণে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি দেশ অর্জন করেছি- সেই লক্ষ্যের প্রতি খেয়াল রেখে আমরা মনে করি, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়ার যে প্রবণতা সেটা অবশ্যই বাদ দিতে হবে। সেটা থাকা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে কয়েক মাস রাজনীতিতে আছে উত্তাপ। উত্তেজনার মধ্যে ব্যতিক্রম উদাহরণও রয়েছে। যেমন- গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সরকার পতন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১০ দফা ঘোষণার পর ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের তারিখ পড়ায় ওই দিন কর্মসূচি না রাখতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। পরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং জোট ও সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকার কর্মসূচিতে বদল আনা হয়। সারাদেশে ঘোষিত ওই দিনের কর্মসূচি পালন করা হলেও ঢাকার যুগপৎ কর্মসূচি ২৪ ডিসেম্বরের বদলে ৩০ ডিসেম্বর পালন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

(ঢাকাটাইমস/১৭ফেব্রুয়ারি/আরআর/আরকেএইচ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও আগুন
গণতন্ত্র ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত চলছে: ফখরুল
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
ভারতকে সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে, বিদ্যুতের দাম দুই বছর না বাড়ানোর আহ্বান সাইফুল হকের
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা