হরিরামপুরে নদীভাঙন, হুমকিতে বিদ্যালয়সহ শতাধিক বাড়িঘর

সায়েম খান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১৪:৩২

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। সোমবার রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া ভাঙনে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এদিকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ২৪টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও স্থানীয় ৪৬নং চর মুকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বসে পড়েছে। আবিধারা গ্রামের বাদল খায়ের তিনটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ২৪টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক বাড়িঘর।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত সোমবার রাত থেকে ধুলশুড়া ইউনিয়নের আবিধারা, কমলাপুর ও নীলগ্রামে ভাঙন শুরু হয়। এতে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ২৪টি পরিবারের বসতভিটা ও স্থানীয় সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটির এক-তৃতীয়াংশ ধ্বসে পড়েছে। ভাঙন কবলিত ওই এলাকায় ১২০০ মিটার অংশে গত কয়েকদিন ধরে আপদকালীন কাজ করছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরইমধ্যে হঠাৎ শুরু হয় ভাঙন। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগের পাশাপাশি জিও টিউব ডাম্পিং শুরু করে পাউবো।

ভাঙনের শিকার জেলেকা বেগম বলেন, প্রথমে সৈয়দনগরে আমাদের বাড়ি ছিল সেখান থেকে নদীতে বাড়ি ভাঙলে এখানে এসে বাড়ি করছিলাম এখানেও ভেঙে গেলো। কোথায় যাবো আমার কোন ছেলে নাই কোথায় গিয়ে মাথা গুজবো আল্লাহ ছাড়া কোন ভরসা নাই।

আবিধারা গ্রামের শেখ মনিরুল বলেন, আমরা কি করবো? কোথায় যাবো? এই পদ্মা নদীতে আমার বাড়ি তিনবার ভেঙেছে। এখন এখানে একটু মাথা গুজেছি এখানেও আবার ভাঙন। কোথায় গিয়ে থাকবো আমরা? যাদের টাকা আছে তারা দূরে গিয়ে বাড়ি করছে কিন্তু আমাদের টাকা নেই তাই এখানেই রয়ে গেছি।

ধুলশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদ খান বলেন, ভাঙনে ইতোমধ্যে আবিধারা গ্রামের ২৪টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আবিধারা, নীলগ্রাম ও কমলাপুর গ্রাম। তিনটি গ্রামে প্রায় এক হাজার পরিবার বসবাস করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানিকগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, ভাঙনের কথা চেয়ারম্যান আমাদের অবহিত করেন। পাশেই আমাদের আপদকালীন কাজ চলছিল। সেই যন্ত্রপাতি নিয়ে আমরা এখানে চলে আসি। ভাঙন ঠেকাতে, এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, সেই পরিমাণ কাজ পাউবো করবে।

হরিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ৪৬নং চর মুকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বসে পরার কারণে আমরা এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের ধুলশুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলেছি। তারপর থেকেই ধুলশুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পাঠদান চলমান রয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাপসী রাবেয়া বলেন, স্কুলটির আংশিক পদ্মায় ধ্বসে গেছে। গতকাল আমি, এডিসি জেনারেল স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছেন।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, আপদকালীন সময়ে ১২০০মিটার কাজ চলছে। হঠাৎ করেই সোমবার রাতে কয়েকটি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও স্কুলের আংশিক ধ্বসে গেছে। আমাদের লোকজন জিও ব্যাগের পাশাপাশি, জিও টিউব ও ডাম্পিং করছে। বাড়িঘর গুলো রক্ষা করতে আমরা কাজ করছি। ভাঙন রোধে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

(ঢাকাটাইমস/২৪ আগস্ট/ইএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :