আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভৈরবের কৃষকরা

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:১৭

ভৈরবে রোপা-আমন ধান চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষক। জমি তৈরি, চাষাবাদ আর জমিতে চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা । যদি আকাশে তেমন বৃষ্টির দেখা মিলছে না তবুও বিকল্প উপায়ে জমিতে পানি দিয়ে চাষ করে রোপণের উপযোগী করছেন উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কৃষকরা।

আমন চাষকে ঘিরে মাঠে মাঠে যেন এখন উৎসব শুরু হয়েছে। তবে তীব্র দাবদাহে আর বৃষ্টির অভাবে ভৈরবের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম হলেও জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আমনের চারা রোপণ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাদেকপুর, রসুলপুর, মেন্দিপুর, গজারিয়া, মানিকদি, তেয়ারিচর, ভবানীপুর, শ্রীনগর, কালিকাপ্রসাদ এলাকার কৃষকরা তাদের জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমির আইলে কোদাল দিয়ে কোপাচ্ছেন। কোথাও কোথাও মাঠ সমান করার জন্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে মইয়ের কাজ। কোনো কোনো স্থানে পাওয়ার টিলার ছাড়াও কৃষকরা নিজেই মই টেনে জমি সমান করার দৃশ্য দেখা গেছে। আবার কোথাও আমন ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা। কেউ আবার জৈব সার জমিতে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে তৈরি জমিতে বৃষ্টির পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। রোদের গরমে কৃষকদের শরীর থেকে বইছে ঘাম, মাথায় বেঁধে রেখেছেন গামছা।

উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছরই এই সময়ে জমিতে বাড়তি ফসল হিসেবে রোপা আমন ধান চাষ করে থাকি। এই বছরেও ৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান রোপণ করেছি। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জমিতে ধান রোপণের জন্য উপযোগী করতে হয়েছে।

উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের কৃষক রাহিম ভূইয়া বলেন, এই বছর ৫ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছি। আমাদের এলাকার জমিগুলোতে বছরে দুই ধরনের ফসল আবাদ হয়ে থাকে। আমরা বর্ষার শেষে পানি চলে যাওয়ার পর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়। পরর্বতীতে একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা হবে।এটিই আমাদের মূল ধান চাষ। এক বছর ধান চাষ করে সারা বছরের খোরাক উৎপাদন করে। যদি আবহাওয়া রোপা আমন ধান চাষের অনুকূলে থাকে আর বর্ষার পানিতে যদি ধান তলিয়ে না যায় তাহলে, এ বছর ধানের ফলন ভালো হবে।

ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রহমতুল্লাহ মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় সাধারণ বোরো ধান বেশি আবাদ করা হয়। তবে বর্ষার শেষ দিকে যদি বর্ষার পানি দ্রুত সময়ের মধ্য চলে যায় তাহলে পানিতে ডুবে যাওয়া জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করি। আসলে এই ফসলটা আমাদের জন্য বাড়তি একটি ফসল হিসেবে পেয়ে থাকি।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, রোপা আমন ধান চাষের জন্য ৫৫০ জন কৃষকে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। ভৈরবে এবার রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা রয়েছে ২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ হেক্টর। তবে আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন কৃষকের কাছে গিয়ে রোপা আমন ধান চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মীরা সাবক্ষণিক কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছেন ।

(ঢাকাটাইমস১৮সেপ্টেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :