জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাক লাগিয়ে দিলেন ভৈরবের মোস্তাক

রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
| আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:০৮ | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:০০

কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুত উৎপাদন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মোস্তাক মিয়া। অটোরিকশার পুরাতন মোটর ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন তিনি।

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্যমী এ যুবক।

মোস্তাকের এ প্রযুক্তিতে আলাদা জ্বালানি লাগবে না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকেই চার্জ হবে ব্যাটারি চালিত মোটরের ব্যাটারি।

এককালীন অর্থ খরচ করে এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এতে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের মতো বাড়তি কোনো খরচ লাগবে না ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ কিলোওয়াটের একটি পুরাতন জেনারেটর, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার পুরাতন একটি মোটর, ৪৮ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি, শ্যালো মেশিনের পাঁচটি চাকা এবং গাড়ির পুরাতন একটি গিয়ার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন তিনি। তার উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নয় থেকে সাড়ে নয় হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ।

উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ দিয়ে পাঁচ এসপি (পাঁচ ঘোড়া) পানি উত্তোলনের মোটর, তিন এসপি (তিন ঘোড়া) পানি উত্তোলনের মোটর, দুইশ ওয়াটের পাঁচটি বাতি ও একটি ফ্রিজ চালানো যায় ।

মোস্তাক মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামের পশ্চিম সেরবাজ এলাকার মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। পাশ্ববর্তী সাদেকপুর গ্রামের একটি মোড়ে তার ইলেকট্রিক জিনিসপত্র মেরামতের দোকান রয়েছে। কাজের পাশাপাশি ধীরে ধীরে অর্থ জোগাড় করে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছেন তিনি।

মো.মোস্তাক মিয়া বলেন, ২০২১ সালে চট্রগ্রামের মহেশখালিতে অবস্থিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুসকো কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে আট মাস চাকরি করেছি । সেখানে চাকরি করার সময় পুসকো কোম্পানির ইলেকট্রিক্যাল সুপারভাইজার মো. রিপনের কাছ থেকে প্রথমে ব্যাটারি ও মটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাটি মাথায় আসে। সেই ধারণা থেকেই পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় বছর চেষ্টা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রযুক্তিটি তৈরি করতে প্রায় ২-৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। যদি নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে খরচ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুন বৃদ্ধি পাবে বলে জানান মোস্তাক মিয়া ।

তার মতে, প্রযুক্তিটি বক্তিগতভাবেও করা যাবে। তবে খরচ বেশি পড়বে। যদি জাতীয়ভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে উৎপাদন খরচ কম পড়বে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে।

প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চেষ্টা করছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর অবশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিনি আলম বলেন, মোস্তাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা শুনে প্রতিদিনই পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন দেখতে আসছে।

সাদেকপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. তাইবুদ্দিন ভূ্ঁইয়া বলেন, গ্রামের একজন ছেলে তার মেধা দিয়ে এই আবিষ্কারটা করেছে। এটি অব্যশই গর্বের বিষয়। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করা হলে আবিষ্কারটি বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন এ জনপ্রতিনিধি।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ জানান, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলার মৌটুপী গ্রামের একজন যুবক পুরাতন মোটর ও ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করবো।

(ঢাকা টাইমস/১ডিসেম্বর/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :